ছেলের
মাদকের নেশা ছাড়াতে বাবা কড়া নেড়েছিলেন থানা-পুলিশ আর সমাজের মাতব্বরদের
দরজায়। চেয়েছিলেন অন্ধকার পথ থেকে ছেলেকে আলোর পথে ফেরাতে। কিন্তু সেই
অন্ধকারই চিরতরে গ্রাস করল ৩২ বছর বয়সী যুবক এরশাদ মিয়াকে। মঙ্গলবার সকালে
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর উত্তর
ইউনিয়নের বি চাপিতলা গ্রামের দক্ষিণ পাশের একটি নির্জন ফসলি মাঠ থেকে তার
গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত এরশাদ বি চাপিতলা গ্রামের
আব্দুল হকের ছেলে। এক সময় পেশাদার চালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করলেও গত
কয়েক বছর ধরে মাদকের মরণনেশায় আচ্ছন্ন ছিলেন তিনি। নেশার ছোবলে ভেঙে গেছে
সাজানো সংসার, ছেড়ে গেছেন স্ত্রী। শোকে পাথর বাবা আব্দুল হক বিলাপ করতে
করতে বলেন, "থানা-পুলিশ, চেয়ারম্যান কার কাছে যাই নাই ওরে ফেরাতে? কিন্তু
নেশা ওরে ছাড়ল না, আজ লাশ হইয়া ফিরল।"
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মুরাদনগর
সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম কামরুজ্জামান দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে
জানান, হত্যার ধরণ দেখে গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাঙ্গরা বাজার
থানার ভঅরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল কাদের জানান, মরদেহ
ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাদক নাকি
অন্য কোনো বিরোধ এই নৃশংসতার মূলে, তা উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
