শনিবার ২১ মার্চ ২০২৬
৭ চৈত্র ১৪৩২
ইরানি খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম |

ইরানি খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড খ্যাত খারগ দ্বীপের দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করতে দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের দখল কিংবা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার এই বিষয়ে অবগত অন্তত চারটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ওই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যতক্ষণ না তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারছেন, ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়। এদিকে, এই সঙ্কটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে।
ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ দখল করার যে কোনো অভিযান মার্কিন সেনাদের সরাসরি বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনতে পারলে কেবল এই ধরনের অভিযান শুরু করা হতে পারে। 
খারগ দ্বীপ দখল কিংবা অবরোধের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে বলছে, ‌‌‘‘ইরানিদের আরও দুর্বল করতে আমাদের প্রায় এক মাস ধরে হামলা চালাতে হবে। এরপর দ্বীপটি দখল করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে। যা আলোচনার টেবিলে আমাদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।’’
এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে আরও সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর তিনটি ইউনিট ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন খুব শিগগিরই আরও অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, ‘‘তিনি (ট্রাম্প) হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। যদি এটি নিশ্চিত করতে খারগ দ্বীপ দখল করতে হয়, তাহলে তা-ই করা হবে। যদি তিনি উপকূলীয় আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিও হবে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’’
মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর টম কটন বলেছেন, স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নাকচ না করে ট্রাম্প ‘বিচক্ষণতার’ পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে এই অভিযানের পক্ষে কি না, তা স্পষ্ট করেননি।
খারগ দ্বীপ ইরানের তেল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি দখল করলেই যে তেহরান ট্রাম্পের শর্তে শান্তি চুক্তিতে রাজি হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘‘এই ধরনের মিশন মার্কিন সৈন্যদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’’
তিনি বলেন, ‘‘যদি আমরা খারগ দ্বীপ দখলও করি, তারা অন্য প্রান্ত থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। এমন নয় যে আমরা তাদের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করি।’’
মন্টগোমারি বলেন, আরও দুই সপ্তাহ হামলা চালিয়ে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত তাদের ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে; যার ফলে স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে না।
চলতি মার্চের শেষের দিকে চীন সফরের আগেই এই যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু হরমুজ প্রণালির এই সঙ্কট তাকে সফর পিছিয়ে দিতে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করতে বাধ্য করেছে।
গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী খারগ দ্বীপের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘‘ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিতেই ওই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে এটি ছিল দ্বীপটিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে স্থল অভিযানের ভিত্তিপ্রস্তুত করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।’’
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আমরা যেকোনও সময় ওই দ্বীপটি দখল করতে পারি। আমি একে একটি ছোট দ্বীপ বলি; যা একদমই অরক্ষিত। আমরা পাইপলাইনগুলো বাদে বাকি সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছি। পাইপলাইনগুলো রেখেছি। কারণ সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে তাদের কয়েক বছর সময় লেগে যেত।’’
স্থল সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না। তবে রহস্য রেখে তিনি বলেন, ‘‘যদি পাঠাতামও তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই আপনাদের বলতাম না।’’
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। এছাড়া সমপরিমাণ সদস্যের আরও দুটি ইউনিট ওই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মেরিন সেনাদের খারগ দ্বীপ ছাড়াও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে ওই অঞ্চলের দূতাবাসগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও করতে পারেন মেরিন সেনারা।

সূত্র: অ্যাক্সিওস।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানি খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদুল ফিতর উদযাপন
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে মালদ্বীপে ঈদুল ফিতর উদযাপন
কুয়েতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
ইকরা কমিউনিটি ইফতার মাহফিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত
কুমিল্লার ৩ মন্ত্রী ও ৯ এমপি কে কোথায় ঈদ করবেন-
বরুড়ায় গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
দৌলতের পরিবারের পাশে দাঁড়াল মিরাখলা প্রবাসী সমাজকল্যাণ পরিষদ
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন কুমিল্লা সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২