মাদক,
অবৈধ মাটি কাটা ও লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা
জানিয়ে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন
“পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। অবৈধভাবে মাটি কাটলে মামলা
অনিবার্য, এখানে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গোমতী চরের মাটি কেটে নদীর
গতিপথ নষ্ট করা হচ্ছে। এতে বাঁধ ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বছর
বন্যায় ফসল, বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে। এসব ক্ষতি মেরামতে সরকারকে
প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। সামান্য কয়েকজন মানুষের
স্বার্থের কারণে জনগণের পাশাপাশি সরকারও দুর্ভোগে পড়ছে।”গতকাল মঙ্গলবার (৩
মার্চ) সকালে উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ইসলামী সমাজ কল্যাণ
পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,
ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটার ভয়াবহতার রুপ নিচ্ছে। দুই একর
জায়গা থেকে টপসয়েল কাটলে তার প্রভাব আশপাশের ১০-১৫ একর জমির ওপর পড়ে।
সাময়িক লাভের জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদী কৃষির বড় ক্ষতি ডেকে আনছি, তা বন্ধ
করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় পরিচালিত ২২টি ইটভাটার অধিকাংশেরই
লাইসেন্স নেই, যারা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে, পরিবেশের ক্ষতি না করে শর্ত
অনুযায়ী ব্যবসা করছেন, তাদের ছাড়া বাকিদের ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিবেশের
ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন কৃষিতে নেতিবাচক
প্রভাব ফেলছে। তাই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও কঠোর আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি নদী-খাল পুনঃখনন ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার
মাধ্যমে কৃষিকে টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন।
এমপি হাসনাত আরও বলেন, জনগণের
ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছেই আমার জবাবদিহিতা ও
দায়বদ্ধতা রয়েছে, কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী, দল বা ব্যবসায়ীদের কাছে আমি
দায়বদ্ধ নই। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসায় মোহাম্মদপুর
ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের প্রশংসা করে এমপি হাসনাত বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও
ইউনিয়নে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক
কাজে যুক্ত করতে পারলে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় অনেকটাই কমে আসবে।
মোহাম্মদপুর
ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সোলায়মান কবির মাসুমের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর
সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির
অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম এবং মাওলানা শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান শেষে এলাকার
প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা
হয়।
