
দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর আগামীতে সাধারণ ৯ বোর্ড ও মাদরাসা-কারিগরিতে একই প্রশ্নপত্র থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। আগামী দিনে কমন সাবজেক্টে (একই বিষয়) মাদরাসা ও কারিগরিতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র করা হবে। এটাকে আমরা একই ধারায় আনতে চাই। সবার যোগ্যতা একই করে গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এ সভার আয়োজন করে।
সভার শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের ফলাফল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের মতামত শোনেন।
দাখিল ও আলিমে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করা একটি মাদরাসার অধ্যক্ষ সভায় জানান, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা যেখানে ১,২০০ নম্বরের পরীক্ষা দেন, সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ১,৭০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সুযোগ পেতে মাদরাসায় বাংলা-ইংরেজিতে ২০০ নম্বর করা হয়েছে। এটা কমিয়ে আগের মতো ১০০ নম্বর করার দাবি জানান তিনি।
তবে শিক্ষামন্ত্রী তার এ দাবি মানা মোটেও সম্ভব নয় বলে জানান। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী যাবেন, তখন তাকে ওখানে সবার সঙ্গে একই ধারায় যেতে হবে। সেজন্য বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বর করার দরকার আছে। এটা থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদরাসায় ১,৭০০ নম্বরের পরীক্ষা আর সাধারণ বোর্ডে ১,২০০ নম্বর এটাও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তাদের জিপিএ হিসাব করা হচ্ছে একইভাবে, ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষাতেও জিপিএ কাউন্ট হয়। তাহলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এত বেশি নম্বরের পরীক্ষা কেন দেবে? এটা কি তাদের সঙ্গে জাস্টিস করা হলো? এটা চলতে দেওয়া যাবে না, ঠিক করতেই হবে।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ।
