ইসমাইল নয়ন।।
শীতের
শেষে বষন্তের শুরুতেই ঋতুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়ায় বেড়েছে মৌসুমী রোগের প্রকোপ। যার ফলে প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে
জ্বর,সর্দি-কাশি,গলা ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথাসহ নানা রোগে ভুগছেন
সববয়সী মানুষ।
বিশেষ করে এই মৌসুমি রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু,
বৃদ্ধ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম সম্পন্ন মানুষ। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ।
হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কিছুদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন
গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়
প্রায় দেড় গুণ বেশি। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মৌসুমি রোগে আক্রান্ত। অধিকাংশ
রোগীই সঠিক চিকিৎসায় কম সময়ের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে কিছু রোগীকে
উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
সরেজমিনে
দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে সকাল থেকেই দীর্ঘ
লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে
আসা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশ রোগীই জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা,
শরীর ব্যথা, পেটের সমস্যায় ভুগছেন। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়
চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের বাড়তি বেগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের চিত্রও
প্রায় একই। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হওয়া রোগীরা জরুরি বিভাগে
এসে ভিড় করছেন। এদের কাউকে ভর্তি দিচ্ছেন চিকিৎসক, আবার কাউকে উন্নত
চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন।
চিকিৎসকরা
বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে
যায়। ফলে এ সময়টায় ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডায়রিয়া ও
চোখের সংক্রমণের মতো নানা রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায়
না রাখা এবং বিশুদ্ধ পানি না পান করার কারণে এ সময়টায় অন্যান্য রোগের
পাশাপাশি ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলেও জানান তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে দুই শিশুকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছেন দেলোয়ারা বেগম। তিনি
বলেন, হঠাৎ করেই আমার দুই সন্তান জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ফার্মেসি থেকে
জ্বরের সিরাপ এনে খাওয়াচ্ছি। এরইমধ্যে তাদের কাশি শুরু হয়েছে। এখন কাশির
সাথে তীব্র জ্বর আসছে, তাই তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।
রোজিনা আক্তার
নামে এক রোগীর অভিভাবক বলেন, এখন দুইরকম আবহাওয়ার তারতম্যের মধ্যে আমরা
আছি। দিনে গরম আর রাতে হালকা ঠান্ডা। এই দুই ধরনের আবহাওয়ার তারতম্যে
অসুস্থতা বেড়েছে। আমার ছেলের তীব্র জ্বর। প্যারাসিটামল খাওয়ালে জ্বর কমে,
কিন্তু পরে আবারও তীব্র জ্বর আসে। আমি নিজেও কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা ও গলা
ব্যাথায় ভুগছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শঙ্খজিৎ সমাজপতি
বলেন, বর্তমানে মৌসুমি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে এ
সময়টায় শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা
রোগীদের আমরা চিকিৎসাপত্র ও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছি। এছাড়াও
হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনদের ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টায় সুস্থ থাকতে করণীয়
বিষয়ে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মনিরুল ইসলাম বলেন, ঋতু
পরিবর্তনের এই সময়ে ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, ডায়রিয়া ও
চোখের সংক্রমণের মতো নানা রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময়টায় শিশু, বয়স্ক এবং
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
তিনি বলেন, এ
সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করা, বাইরে
থেকে এসে সাবান পানি দিয়ে ভালোমতো হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাইরে
বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। এ সময়টায় মৌসুমি ফল ও পুষ্টিকর
খাবার গ্রহণ করা খুব জরুরি।
তিনি আরো বলেন এ সময়টায় যেকোনো অসুস্থতায়
অবহেলা না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
