বিদ্যুৎ
খাতে বেসরকারি অংশীদারত্ব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল
হয়েছে এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন,
‘‘জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে। আমি মনে করি, ঋণে ডুবে থাকার
থেকে কষ্ট করে থাকা ভালো।’’
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ
মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের
(এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য
করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে জ্বালানি
সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে, সেখানে বসিয়ে রেখে
ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরোই হয-ব-র-ল অবস্থা।’’
এক প্রশ্নের
জবাবে তিনি জানান, আমি আগে যখন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, ২০০৪ সালে
নীতিমালা করেছিলাম, তাতে বলা ছিল— বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশীদারত্ব
থাকবে ৩৫ শতাংশ, আর সরকারি থাকবে ৬৫ শতাংশ। পরবর্তী সরকার এটা মানেনি। এখন
বেসরকারি অংশ হয়ে গেছে ৮২ শতাংশ। যে কারণে কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা জনগণের
ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে গেছে। এটি এত টাকার দায়, ম্যানেজ করা কঠিন। বিদ্যুতের
দাম বাড়াতে পারবো না। আমরা চেষ্টা করছি, উইন উইন সিচুয়েশনে আনতে হবে।
তিনি
আরও বলেন, ‘‘আমার সময় বিদ্যুতে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ। ১৯ বছর পরে এসে
দেখছি ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। ১ শতাংশ সমান ৫০ লাখ টাকা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৩
শতাংশে নামিয়ে আনা। প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে
আনার জন্য। এটা করা গেলে লোকসান কমে আসে। না হলে দায় আরও বাড়বে, আইএমএফ এসে
চাপ দেবে। আমরা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ভাবছি—
যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।’’
এফইআরবি বিদায়ী চেয়ারম্যান
শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত
চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান। এ সময় বিদায়ী ও নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের
সম্মাননা স্মারক হস্তান্তর করা হয়।
