
দেশে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিনের সূচনা শুরু হবে নতুন সরকারের শপথের মাধ্যমে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ঘাত-প্রতিঘাত চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনমনে প্রত্যাশা বেড়েছে আকাশছোঁয়া। অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে ঠিকই, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে সংকট বেড়েছে। সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সফলতার মুখ দেখেনি। দেশের এমনি সংকটময় অবস্থায় একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এখন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মন্ত্রিসভা গঠন করাই হবে বিএনপির রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এটি সময়ের দাবিও। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপি রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ছিল। এ সময়টাতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলটির ওপর দিয়ে নজিরবিহীন ঝড় বয়ে যায়। তারেক রহমান লন্ডনে থেকে তার দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আগস্ট-পরবর্তী রাজনীতিতে তারেক রহমান যথেষ্ট পরিপক্বতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। এ জন্য তিনি গণমানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনই তা প্রমাণ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মেধা, সততা ও দেশপ্রেমকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক আদর্শের জন্ম দেবে, যা তারেক রহমানের হাত ধরেই সম্ভব হবে। তিনি এমন এক নেতৃত্ব মন্ত্রিসভায় সম্পৃক্ত করবেন, যারা শুধু দেশ শাসন করবেন না, জনগণের সেবক হয়ে নতুনধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। অতীতের পচে যাওয়া গণতন্ত্র থেকে বের হয়ে একটি আধুনিক ও কার্যকর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি উন্মেষ ঘটাবেন। বিজয়ের প্রথম প্রহরে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা দেশে একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আশাবাদ জাগিয়েছে। তার এই বক্তব্য প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ দেশের মানুষ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এ কারণে অভ্যুত্থান এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু দিনের পর দিন এ দেশের মানুষ দেখেছে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বাজার সিন্ডিকেট- এ ধরনের নানা অব্যবস্থাপনা। তাই মানুষ সোচ্চার হয়েছিল দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য। একটি দেশের রাজনৈতিক উৎকর্ষ নির্ভর করে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সততার ওপর। একটি উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারা তাদের হাত ধরেই উৎকর্ষে পূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা বিগত বছরগুলোতে দেখেছি, রাজনীতিতে নীতি প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছিল। সংসদে আমরা ব্যবসায়ীদের রাজনীতি করতে দেখেছি। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না বললেই চলে। মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষকে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। দুর্নীতি করে এ দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়ে সুষ্ঠু রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ হোক দল-মতনির্বিশেষে সবার মধ্যে। নতুন সরকারের সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সংকট-সংশয় সত্ত্বেও অবশেষে আজ নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ হচ্ছে। এ জন্য নতুন বাংলাদেশ গড়তে যারা আজ বিজয়ের মুকুট পরেছেন, সেই সব নির্বাচিত সদস্যকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমরা আশা করি, নতুন সরকার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বহুল আকাঙ্ক্ষিত জনপ্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।
