নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা শিশু মাতৃ হাসপাতালে সিজার করতে
আসা এক প্রসূতি নারী ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে’ এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন
আরেক হাসপাতালের আইসিইউতে। ওই নারীর নাম রুবি আক্তার। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া
উপজেলা সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের দিনমজুর জাকির হোসেন এর স্ত্রী।
রোগীর স্বজনরা বলছেন, ‘হাসপাতাল থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কথা বলা হলেও
কেউ কেউ বলছে- তার জরায়ু কেটে গেছে।’
রুবির স্বামী জাকির হোসেন বলেন,
গতকাল রবিবার রাতে আমার স্ত্রী রুবি আক্তারকে নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া
সাহেবাবাদের টাটেরা শিশু মাতৃ হাসপাতালে ডাক্তার আয়েশা খাতুনের কাছে নিলে
তিনি প্রথমে আমাকে বলে একটা আলট্রাসনো করতে হবেল পরে রুগী অবস্থা জেনে
সিজার করাবো। কিছু সময় পর ডাক্তার জানান সব কিছুই ঠিক আছে রুগীকে সিজার
করতে হবে এবং ১ ব্যাগ রক্ত ব্যবস্হা করতে হবে। সিজারে বাচ্চা হওয়ার পর
আমাদেরকে বলে রক্ত লাগবে তারাতাড়ি রক্ত জোগার করতে, এর কিছু সময় পর
হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ রক্ত সংগ্রহের জন্য এদিক ও দিক ছোটাছুটি করছে। পরে
আমাকে জানায় রুগীর অবস্থা ভাল না তারাতাড়ি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
পাঠাতে হবে।একটু পরে দেখি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স এসে আমার স্ত্রীকে
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে শুনেছি একটা অপারেশন হয়েছে। পরে
আমার স্ত্রী রুবি আক্তারের অবস্থা আরো খারাপ হলে শিশু মাতৃ হাসপাতালে
কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা সিডি প্যাথ হাসপাতালের আইসিওতে ভর্তি করে। বর্তমানে
আমার স্ত্রী রুবি আক্তার শুনেছি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। এ বিষয়ে শিশু মাতৃ
হাসপাতালে ডাক্তার আয়েশা খাতুনের মোবাইল নাম্বারে কয়েকবার ফোন দিলে
ডাক্তারের মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
শিশু মাতৃ হাসপাতালে পরিচালক হারুনর রশীদকেও কয়েকবার ফোন দিলে তাকে পাওয়া পায়নি।
সিডি
প্যাথ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় সোমবার ভোর ৫টার দিকে রুবিকে মুমূর্ষূ
অবস্থায় এ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া
হচ্ছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
শেখ মো: হাসিবুর রেজা জানান, আমি এই মাত্র বিষয়টি আপনার কাছে শুনেছি, আমি
আগামীকাল (আজ) হাসপাতালে গিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ ঘটনায়
কারো অবহেলা কিংবা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে।
