কুমিল্লার
হোমনায় প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার
রাতে কোন এক সময়উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সকালে
প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা
হচ্ছে ওই গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রীপাপিয়া আক্তার সুখি (৩৬),
তার চার বছরের শিশু ছেলে মো. হোসাইন এবং প্রবাসী জহিরুল ইসলামের ছোট ভাই
প্রবাসী আবদুস সাত্তারের পাঁচ বছরের ছেলে জোবায়ের।
নিহত সুখীর জা এবং
শিশু জুবায়েরের মা লিপি আক্তার জানান, সোমবার রাতে তার ছেলে জোবায়ের তার জা
পাপিয়া আক্তার সুখীর ঘরে ঘুমাতে যান। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি
করছে দেখে দরজা ধাক্কা দিলে দেখা মেলে ঘরের ভেতর পৃথক কক্ষে তিনজনের
গলাকাটা মরদেহ পরে আছে। পরে তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা এসে পুলিশে খবর
দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
হোমনা থানার ওসি
মোরশেদুল আলম বলেন, রাতের যে কোনো সময় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। তিনজনকেই
গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিনজনের মরদেহ ঘরের বিভিন্ন স্থানে গলাকাটা
অবস্থায় পরেছিলো। ঠিক কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড তার কোনো ক্লু খোঁজে পাওয়া
যাচ্ছে না। হত্যায় ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র বা অন্য কিছুরও আলামত মিলছে না। তবে
ঘরের ভিতর আলমিরাসহ বিভিন্ন আহবাবপত্র লুটের আলামত রয়েছে। একইসঙ্গে যে ঘরে
হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে সেই ঘরের দরজা খোলা ছিল। ওই নারীর ব্যবহৃত যে
মোবাইল ফোন- সেটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একইসঙ্গে মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা তাদেরকে হত্যা করে মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে
যান।
ময়নাতদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে
কিছুই বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে হোমনা থানা পুলিশ,
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি এ
হত্যাকাণ্ডের ক্লু খুঁজতে মাঠে নেমেছে।
‘আমাদের কোনো শত্রু নেই, কে করলো এই কাজ’:
স্থানীয়দের
সাথে কথা বলে গেছে, প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী তার
চার বছরের শিশু ছেলে হোসাইনকে নিয়ে তাদের বিল্ডিংয়ে আলাদা থাকেন। অপরদিকে
জহিরুলের ছোট ভাই সাত্তারের স্ত্রী তার সন্তানকে নিয়ে আলাদা ঘরে থাকেন।
সোমবার দিবাগত রাতে সাত্তারের ছেলে জুবায়ের তার চাচির সাথে তাদের বিল্ডিংয়ে
থাকার বায়না ধরে। এরপর রাত ৮টার দিকে জুবায়েরকে তার চাচির ঘরে ঘুমাতে দিয়ে
যান তার মা। কিন্তু পরদিন সকালে তাকে ডাকতে এসে দেখেন কেউ সাড়া দিচ্ছেন
না। তারপর দরজায় ধাক্কা দিতেই তা খোলে যায়। দরজা খোলতেই দেখেন মেঝেতে কাঁথা
মোড়ানো অবস্থায় কেউ শুয়ে আছেন। কাঁথা সরিয়ে দেখেন সুখীর চার বছর বয়সী ছেলে
হোসাইনের গলাকাটা মরদেহ। এরপর দেখেন ঘরের ভেতর পৃথক রুমে বাকি দুইজনকেই
গলা কেটে হত্যা করে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তার চিৎকার শুনে পাশের
ঘরের লোকজন এসে দেখেন ঘরের ভেতর তিজনের মরদেহ।
নাম প্রকাশ না করার
শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মৃত অবস্থায় ওই নারীকে কিছুটা বিবস্ত্র
অবস্থায় দেখা গেছে। সম্ভবতো তার সাথে দুর্বৃতের অথবা দুর্বৃত্তদের
ধস্তাধস্তি হয়েছে। তার পরনে শুধু পেটিকোট এবং ব্লাউজ ছিলো। হয়তো
চুরি-ডাকাতি করতে এসে তাদেরকে হত্যা করেছে; নতুবা অন্য কিছু। পুলিশে তদন্তে
হয়তো বিষয়টি উঠে আসবে।
জানতে চাইলে নিহত সুখির জা ও জুবায়েরের মা লিপি
জানান, ‘আমাদের পরিবারের সাথে কারো কোন শত্রুতা নেই, কি কারণে, কারা খুন
করেছে আমরা কিছু ই জানিনা। আপনার সবাই মিলে এই ঘটনা বের করবেন। আমরা শুধু
বিচার চাই-সঠিক বিচার চাই।’
