মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৮ মাঘ ১৪৩২
নির্বাচনী আমেজে নাগরিক প্রত্যাশা: প্রতিশ্রুতি নয়
মো. দুলাল হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৬ এএম আপডেট: ০৯.০২.২০২৬ ২:০৮ এএম |



 নির্বাচনী আমেজে নাগরিক  প্রত্যাশা: প্রতিশ্রুতি নয়নির্বাচন আমাদের দেশে একটি পরিচিত দৃশ্যপট। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিশ্রুতির বন্যা নামে। নির্বাচনী ইশতেহারে থাকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, শান্তি ফিরিয়ে আনা, সন্ত্রাস নির্মূল, প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ, নতুন বিভাগ গঠন কিংবা নানা ধরনের কার্ড বিতরণের আশ্বাস। এসব প্রতিশ্রুতি শুনতে ভালো লাগলেও প্রশ্ন থেকে যায়-এগুলো কি নাগরিক জীবনের মৌলিক সমস্যার সমাধান করে?
আমরা নাগরিক হিসাবে  চাই একটি কার্যকর রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিদিনের জীবনযাপন হবে নিরাপদ, সম্মানজনক ও ঝামেলামুক্ত। নাগরিক চায় এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সেবা পেতে হাত পাততে হবে না, যেখানে ভিক্টিম হয়ে আবার ভিক্টিমাইজড হতে হবে না।
নাগরিক সেবায় কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন প্রথমেই আসে জাতীয় পরিচয়পত্র। এটি একজন নাগরিকের মৌলিক পরিচয়। অথচ এই পরিচয়পত্র পেতে নাগরিককে নানা ধাপে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পন্ন করার কার্যকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। আজও একজন নাগরিককে দালালনির্ভর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ডিজিটাল ও দোরগোড়াভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে নাগরিক যেমন উপকৃত হবে, তেমনি দুর্নীতির পথও সংকুচিত হবে।
নাগরিক জীবনের চালিকাশক্তি রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রতীক। কিন্তু আমাদের রেলসেবা এখনও কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছায়নি। বহির্বিশ্বে রেলওয়ে যেভাবে সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা ও যাত্রীবান্ধব সেবার উদাহরণ তৈরি করেছে, ঠিক সেই সিস্টেম আমাদের দেশেও বাস্তবায়ন করা জরুরি। আধুনিক রেলব্যবস্থা গড়ে উঠলে নাগরিকদের সময়, অর্থ ও জীবনমান-সবই উন্নত হবে এবং বহির্বিশ্বেও সন্মানিত হবে।
বিদ্যুৎসেবা শতভাগ নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। বিদ্যুৎকে বিলাসিতা নয়, নাগরিক অধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পরিচ্ছন্ন, ধুলাবালিমুক্ত ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। উন্নত বিশ্বের আদলে নগর পরিকল্পনা ছাড়া নাগরিক জীবন কখনোই স্বস্তিদায়ক হতে পারে না।
গণপরিবহন ও আধুনিক নগরায়ন বিভাগীয় শহরগুলোকে সংযুক্ত করে মেট্রোরেল ও সাবওয়ে ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। প্রতিটি মেট্রোরেলের সঙ্গে সমন্বিত সড়কব্যবস্থা থাকলে যানজট কমবে, কর্মঘণ্টা বাঁচবে এবং শহরগুলো সত্যিকার অর্থে আধুনিক রূপ পাবে।
ব্যবসা নয়, মানবিকতা চাই।আজ আমাদের শহরগুলো যেন হাসপাতাল ও ফার্মেসির নগরীতে পরিণত হয়েছে। সিরিয়াল বাণিজ্য, ওষুধ কেনার হিড়িক ও চিকিৎসার ব্যয় নাগরিককে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। পৃথিবীর কোথাও এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা নেই, যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বহির্বিশ্বের মানবিক, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ও জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনুসরণ করা এখন জরুরি।
ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ কোনো নাগরিক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা কোনো অপরাধের শিকার হলে দ্রুত সহায়তার জন্য কুইক রেসপন্স টিম থাকা অপরিহার্য। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য-আমাদের দেশে ভিক্টিমকে আইনি সহায়তা পেতেই আবার অদৃশ্য খরচের মুখোমুখি হতে হয়। এতে ভিক্টিম দ্বিগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাষ্ট্র যদি সত্যিই নাগরিকবান্ধব হতে চায়, তবে বিনা খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থা রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে তার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। আজকে দৃশ্যমান যতগুলো রাষ্ট্র আছে তাঁরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আজ সেশনচার্জ, প্রাইভেটনির্ভরতা,কোচিং ব্যবসা ও বিভিন্ন বৈষম্যের ভারে ন্যুব্জ। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন কিংবা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
পরমাণু শক্তি, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, আধুনিক যানবাহন ও এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-সবকিছুর মূলেই রয়েছে মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা। তাই শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্রের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাসপোর্টের মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় ইমেজ আজ আমাদের পাসপোর্ট বহির্বিশ্বে সম্মান হারিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে দুর্বল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের অভাব। কার্যকর সংস্কার ছাড়া এই সম্মান পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে ভিক্ষা চায় না। ফ্রি কার্ড, লোক দেখানো প্রতিশ্রুতি কিংবা কাগুজে উন্নয়ন নাগরিক জীবনে খুব বেশি কাজে আসে না। নাগরিক চায় নিরাপত্তা, সুশাসন ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা।
আজও আমাদের দেশে ডোবায় পড়ে শিশুমৃত্যু, খোলা ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যু, রেললাইনের পাশে দুর্ঘটনা, প্রকাশ্যে খুন-এসব যেন নিত্যদিনের খবর। এসব ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়।
রাষ্ট্র যদি নাগরিক নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে, তবেই সে রাষ্ট্র মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি নয়-নাগরিক চায় একটি কার্যকর রাষ্ট্র।
লেখক: সহকারী শিক্ষক (গণিত), পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতা কর্মীদের প্রতি উদার হতে হবে
মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করবে: হাজী ইয়াছিন
নক্সা অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ ঝাউতলায় ৩ তলা অবৈধ ভবন অপসারণে কুসিকের ২য় নোটিশ
সবাইকে নিয়ে আধুনিক বরুড়া গড়ে তুলবো
ব্যালট যাচ্ছে কুমিল্লার আসনে আসনে
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লা দক্ষিণে বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
দেবিদ্বারে বিএনপি-এনসিপি সমর্থকদেরহাতাহাতি পাল্টাপাল্টি শ্লোগানে উত্তেজনা
খালাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আহত বিএনপি নেতার মৃত্যু
এবারের নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন - মনিরুল হক চৌধুরী
আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতা কর্মীদের প্রতি উদার হতে হবে
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২