পরিবারের
চেয়ে বেশি সময় আমার স্বামী দেশকে দিতো, কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকে বাঁচতে
দিল না। আমার সব শেষ হয়ে গেল। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে পতেঙ্গা
র্যাব ৭ এর কার্যালয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সীতাকুণ্ডের
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত র্যাবের নায়েব সুবেদার মো.
মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী শামসুন্নাহার। এসময় তার সঙ্গে বড় ছেলে মেহেদী
হাসান, বড় মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ছোট মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহা এবং
আত্মীয়-স্বজনরা ছিলেন।
শামসুন্নাহার বলেন, এই সন্ত্রাস বাংলাদেশে যেন
না থাকে। তাদের (সন্ত্রাসী) সবার যেন বড় ধরনের বিচার হয়, ফাঁসি হয়। আমি
আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমার স্বামী দেশদ্রোহী ছিলেন না, তিনি ছিলেন
দেশপ্রেমিক। দেশকে অনেক ভালোবেসেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘‘চাইলেই আমার
স্বামী পালিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। আমি সঠিক বিচারটা
চাই। এই সন্ত্রাসকে নির্মুল করে শেষ করে দিতে হবে। এই সন্ত্রাস বাংলাদেশে
থাকতে পারবে না।’’
নিহত র্যাব সদস্য মোতালেব এর বড় মেয়ে দশম শ্রেণির
শিক্ষার্থী শামিমা জান্নাত বলেন, ‘‘আমার আব্বুকে যারা মেরেছে তাদের যেন
বিচার হয়। আমার আব্বুকে তারা যেভাবে মেরেছে, সেভাবেই তাদেরকে মারা উচিত।
আজকে আমার আব্বু মারা গেছে, কালকে আরও কতজনের আব্বু মারা যাবে।’’
বাবার
স্মৃতিচারণ করে মোতালেবের বড় ছেলে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান
বলেন, ‘‘বাবা আমাকে অনেক ভালবাসতেন। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল মধুর। তিনি
আমাকে ভালোভাবে লেখাপড়া করার পরামর্শ দিতেন। পাশাপাশি মা-বোনদের দেখে
রাখার জন্য বলতেন। আজ আমার বাবা আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন। আমাদের কী
হবে, জানি না।’’
জানা গেছে, নিহত নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন
ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলার সদর অলিপুর গ্রামে ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ
করেন। তিনি ১৯৯৫ সালের ৭ জুলাই বিজিবিতে যোগ দেন। দেশের বিভিন্ন বিজিবি
সেক্টরে চাকরি করেন। ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল র্যাব-৭ এ যোগ দেন।
উল্লেখ্য,
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম
জেলার সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে
দুষ্কৃতিকারীদের অতর্কিত হামলায় র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হলে
ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এর জরুরি
বিভাগে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন
ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
