
বিপিএলের
ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়াতে এমনিতেই বিষন্ন ছিলেন লিটন দাস। রংপুর রাইডার্স
শেষ বলে ছক্কা হজম করে এলিমিনেটর ম্যাচ হেরেছে সিলেটের কাছে। রংপুরের
অধিনায়ক হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। প্রথম প্রশ্নটাই করা হয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। কেননা জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কও তিনি।
চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার হিসেবে বোর্ডের যে কোনো সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য
লিটনরা। বিষয়টা একেবারেই সহজ। তবুও প্রত্যেকেরই নিজেরই মত থাকে। হয় সেটাকে
আপনি মেনে নেবেন, নয়তো মানবে না। মাঝামাঝি থাকার কোনো সুযোগই নেই। লিটন
শেষ অপশনটাই বেছে নিলেন।
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে দল পাঠাতে নারাজ
বিসিবি। সরকার থেকেও মিলেছে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত। অথচ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের
চার ম্যাচই ভারতে। আইসিসিকে বিশ্বকাপের ভেন্যু সরিয়ে দিতে অনুরোধ করেছে
বিসিবি। সেই অনুরোধ রাখা হবে কিনা সিদ্ধান্ত আসবে এই সপ্তাহেই।
তবে বোর্ডের অবস্থানের সঙ্গে লিটন একমত কিংবা একমত নন সেই আলোচনাতেই গেলেন না। সোজাসাপ্টা বলে দিলেন, ‘‘নো কমেন্টস।’’
বিপিএল
খেলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারছেন ক্রিকেটাররা। অথচ আজকের এলিমিনেটর
ম্যাচ হলো মাত্র ১১২ রানের। আদর্শ উইকেটে প্রস্তুতি হলো কি না সেই প্রশ্ন
জিজ্ঞাসা করতেই লিটনের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘আপনি কি নিশ্চিত যে আমরা বিশ্বকাপ
খেলতে যাচ্ছি? আসলে বিশ্বকাপ যেতে আরও অনেকদিন বাকি, আদৌ যাব কি না তা নিয়ে
আমরা নিশ্চিত নই। টি-টোয়েন্টির জন্য এটি কোনোভাবেই আদর্শ উইকেট নয়।
কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আরও ভালো উইকেট প্রত্যাশা করেছিলাম।’’
বিশ্বকাপ খেলা
নিয়ে এই টানাপোড়নের পরিস্থিতি মোটেও আদর্শ নয়। লিটনও তা বুঝতে পারছেন। তবে
জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়াতে অনেক কিছুই বলতে পারেন না তা বুঝিয়ে দিলেন,
‘‘জীবনে অনেক কিছুই আদর্শ নয়, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী তা মেনে নিতে হয়।’’
যাকে
ঘিরে এতো কিছু, সেই মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যু কিংবা ভারতে খেলার
সিদ্ধান্তের বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে লিটনের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করলেন,
‘‘না, এই বিষয়ে আমার সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।’’
তবে
খেলার সুযোগ না পাওয়া কিংবা এই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে যে তার ভালো লাগছে
না তা বুঝিয়ে দিয়েছেন আরেক প্রশ্নের উত্তরে, ‘‘সবাই বিপিএল খেলছে ঠিকই,
কিন্তু যদি আমরা জানতাম আমাদের গ্রুপে কারা (বিশ্বকাপে) বা আমরা কোন দেশে
যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়ই জানে না আমরা কোন দেশে যাব বা কাদের
বিপক্ষে খেলব। আমার মতো পুরো বাংলাদেশই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।’’
ভারত
এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বৈরিতা নিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক কোনো
মন্তব্য করতে নিরাপদবোধ করেননি, ‘‘আমি বুঝতে পারছি আপনি কী প্রশ্ন করবেন,
তবে এটি আমার জন্য নিরাপদ নয়। এর কোনো উত্তর দেব না।’’
সামনে কি হবে তা
লিটনও জানেন না। তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক নিজেদের প্রস্তুত রাখবেন তা
বুঝিয়ে দিয়েছেন ভালোভাবে, ‘‘আজ থেকে খেলা শেষ, তাই এখন রুমে বিশ্রাম নেব।
বিপিএলে আমরা অনেকগুলো ম্যাচ একটানা খেলেছি, কোনো বিরতি বা রিকভারির সময়
ছিল না। বিশেষ করে রংপুর দল একদমই সময় পায়নি। দুর্ভাগ্যবশত আমরা
কোয়ালিফায়ার থেকে বাদ পড়ে গেলাম। যারা রংপুরের ভক্ত এবং মালিকপক্ষ আমার ওপর
ভরসা করেছিলেন, তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় আমি দুঃখিত। যদি
বিশ্বকাপে যাই, তবে এই বিরতিটা কাজে দেবে। ২৩ তারিখের পর যারা খেলা শেষ
করবে, তারা বিশ্বকাপের আগে প্রায় ১৪ দিন সময় পাবে। এতে মানসিকভাবে
চিন্তাভাবনা করার সুযোগ থাকবে।’’
