বন্দর
নগরী চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ ইব্রাহিমাবাদ রুটে চলাচলকারী
নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস নামের একটি মেইল ট্রেন সম্প্রতি অনিয়মিত হয়ে পড়ায়
হাজার হাজার যাত্রীসহ বিপুল পরিমান মালামাল পরিবহন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে রাজস্ব অন্যদিকে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন
করেছে।
কুমিল্লা রেলওয়ে ষ্টেশন সুত্র জানায়, প্রতিদিন চট্টগ্রাম ও
ইব্রাহিমাবাদ দু'দিক থেকে দুটি এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। একাধিক গন্তব্যে
যাত্রাবিরতি করায় ট্রেনটিতে প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে হাজার হাজার যাত্রী
যাতায়াত করে। একইভাবে বিপুল পরিমান মালামালও পরিবহন করে। কিন্তু গত ৩১
ডিসেম্বর থেকে কোন পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই ট্রেনটি অনিয়মিত চলাচল শুরু করে। এতে
যাত্রীদের পাশাপাশি মালামাল পরিবহন নিয়েও চরম দুর্ভোগে মানুষ। কুমিল্লা
রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই স্টেশন
থেকে কয়েক শত যাত্রী এই ট্রেনের উভয় গন্তব্যে যাতায়াত করেন, একইভাবে
পার্শ্বেল সহকারী রাশেদুল আলম বলেন, এই ট্রেনে করে বিভিন্ন গন্তব্যে ঔষধ,
জুতা, রিক্সার পার্টস, অটোপার্টস, আসবাবপত্র, ভ্যান, বাইসাইকেল, টায়ার,
টিউব, ব্যাটারী, জাল, ষ্টেশনারী পন্য, ডিম, কাপড়, কাচা-পাকা ফল, সব্জি,
চাউল, শুটকী, মুড়িসহ নানা পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন গন্তব্যে আসা-যাওয়া
করে। এতে রেলওয়ে মোটা অংকের টাকা রাজস্ব আদায় করে। তিনি আরো বলেন,
শুধুমাত্র কুমিল্লা ষ্টেশন থেকেই প্রতিমাসে গড়ে ৩০-৪০ হাজার কেজি ওজনের
পণ্য বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ট্রেনটি অনিয়মিত হয়ে পড়ায়
বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজস্ব হারাচ্ছে এবং মালামাল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত
শ্রমিকরাও অনেকটা অলস সময় পার করছে। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবন জীবিকা
নির্বাহ করাও দুক্ষর হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য প্রতিদিন দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে
এবং মধ্যরাতে ইব্রাহিমাবাদ স্টেশন থেকে নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি
গন্তব্যের পথে ছেড়ে আসে। বিষয়টি জানতে চাইলে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন
মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন বলেন ইঞ্জিন সংকটের কারণে এমনটা হচ্ছে। আশা করি
খুব তাড়াতাড়ি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নজর দিবেন।
