
কুমিল্লা
নগরীর সড়ক প্রশস্ত করতে রাতের আধাঁরে কাটা হয়েছে শতবর্ষীসহ অর্ধশতাধিক
গাছ। এসব বৃক্ষ কর্তনের বিষয়ে কিছুই জানে না সড়ক ও জনপদ বিভাগ। অনুমতি ছিলো
না সামাজিক বন বিভাগের। জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন এ বিষয়ে কিছুই
জানে না। তাহলে এই গাছ কাটলো কারা বা ঠিকাদারকে অনুমোদন দিলেনই বা কে? এমন
প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। অথচ সড়কটির উপর এখনো অবৈধ স্থাপনা রেখেই স্বরূপ
উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সচেতন নাগরিকদের ক্ষোভ, সড়কের উপর
থেকে অবৈধ স্থাপনা না সরিয়ে যদি উন্নয়ন কাজ করা যায়, তাহলে শতবর্ষী এসব গাছ
কেন রাখা গেল না? দেশের বিভিন্ন সৌন্দর্যমন্ডিত শহরগুলোতে রাস্তার উপর
শতবর্ষে গাছ টিকিয়ে করা হয়েছে উন্নয়ন কাজ। যা শহরে সৌন্দর্য যেমন অক্ষুন্ন
রেখেছে তেমনি পরিবেশের ও ভারসাম্য রক্ষা করছে।
সামাজিক বন বিভাগ
কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জি.এম.মোহাম্মদ কবির বলেন, সরকারের যে
প্রতিষ্ঠান ভূমির মালিক। তারা নীতিমালা মেনে গাছ কাটার আবেদন করবে। সড়ক ও
জনপদ বিভাগ এ বিষয়ে কোন চিঠি দেয়নি। এখানে গাছ কাটার কোন অনুমতিপত্র কাউকে
সামাজিক বন বিভাগ প্রদান করেনি।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে ,
কুমিল্লা নগরীর টমচমব্রিজ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন,
প্রসারিত করন, সড়কের অংশিক বক্সড্রেন ও সড়ক বিভাজনের কাজ চলছে প্রায় ছয়
মাস। সরেজমিনে দেখাযায়, কুমিল্লা ইপিজেডের উত্তরাংশের দেয়ালের পাশে থাকা
ছোটবড় ৩০-৩৫টি গাছ। এখানে ফুল ও পাতাবাহারের গাছের বাগান আর নেই। ঢুলিপাড়া
ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে কাটা হয়েছে বড় আকৃতির একাধিক রেইনট্রি গাছ।
আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে কাটা হয়েছে শতবর্ষী
একাধিক বৃক্ষ। কেটিসিসি কুমিল্লার সামনের গাছও আর নেই। মেডিকেল সড়কের
শতবর্ষী বটবৃক্ষ কাটা হয়েছে। এছাড়াও এককিলোমিটার অংশে ছোট বড় অর্ধশতাধিক
বৃক্ষ নিধন করা হয়েছে রাতের আঁধারে।
স্থানীয় কুচাতলীর বাসিন্দা আল
মামুন ও বাখারাবাদের বাসিন্দা তৌহিদ হোসেন প্রতিদিন এ সড়কে যাতায়াত করেন।
উভয়ে জানান, গত ছয়মাসে এ সড়কের পাশে অর্ধশতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। বটগাছটির
বয়স দুইশত বছর হতেপারে। এছাড়াও শতবর্ষী গাছ ছিলো পাঁচ থেকে সাতটি। যেহেতু
দিনে মেডিকেল রোডে গাড়ি চলাচল বেশী। এসব গাছ রাতে কর্তন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লার মোঃ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান বলেন, টমচমব্রিজ থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত সড়কটি
সড়ক
ও জনপদ বিভাগের সম্পত্তি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন আমাদের অবগত না করে
সড়কটি টেন্ডার করে। যেহেতু টেন্ডার হয়ে গেছে, কাজ না হলে টাকা ফেরত যাবে।
আমরা শুধু এবারের জন্য তাদের উন্নয়ন কাজ করার অনুমতি দিয়েছি। তাও উভয়
মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর। সড়কে বা সড়কের পাশের কোন বৃক্ষ
কর্তনের বিষয়ে বলা হয়নি। বিষয়টি আমরা জানি না।
কুমিল্লা সিটি
কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাঈন- উদ্দিন চিশতী বলেন, আমরা সড়ক
সংষ্কারের জন্য ঠিকাদারকে বলেছি। গাছ কাটার বিষয়ে ঠিকাদারকে বলা হয়নি। অন্য
কেউ গাছ কাটছে কিনা। আমার জানা নেই।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মামুন বলেন, এ বিষয়ে কোন তথ্য আমার জানা নেই।
আদর্শ
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আমার অফিসের সামনে
শতবর্ষী বেশ কিছু গাছ কর্তন করা হয়েছে। কে বা কারা কাটছে আমি জানি না। কারণ
রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের। এসব দেখে আমরাও চিন্তা করছিলাম গাছ কাটা
ব্যতিত বিকল্প কোন পথ ছিলো না?
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: সাইফুল ইসলাম
বলেন, গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
হয়েছে। এ সভায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলো। সড়কের
সংষ্কার বিষয়েও কথা হয়েছে। এভাবে শতবর্ষীসহ অর্ধশতাধিক গাছ কাটার বিষয়টি
কেউ বলেনি। সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, জানে না। এখন তো জেনেছে, আইনানুগ যেনো
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
