নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার
(১৯ জানুয়ারি) এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়। এর আগে একটি নির্বাচনি
কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। আগের ঘোষিত পথনকশা অনুযায়ী
সম্পন্ন করতে পারেনি ইসি।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ। জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধানাবলী অনুসরণ, ভিজিল্যান্স ও
অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন এবং
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের
আনুষঙ্গিক খাতে প্রদত্ত অর্থের ব্যায় নির্বাহ সংক্রান্ত ও বিবিধ নির্দেশনা
জারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা
প্রকাশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রাপ্তি।
দেশি-বিদেশি
পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবাদ
বিজ্ঞপ্তি জারি। ই-মেইল প্রেরণ ও যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাকে (যেসব
সংস্থায় বাংলাদেশ সদস্য) নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো।
২২
জানুয়ারি ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজে তদারকি করার জন্য দায়িত্ব সংক্রান্ত
অফিস আদেশ জারি। নির্বাচনি কাজে ব্যয় নির্বাহের জন্য মাঠ পর্যায়ে ২য় পর্বে
অর্থ বরাদ্দ ও মঞ্জুরি ভোটকেন্দ্রের তালিকা গেজেটে প্রকাশের জন্য বিজি
প্রেসে প্রেরণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট
নিয়োগ, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নির্বাচনী ব্যয় বিবরণী দাখিল, নির্বাচনি
ব্যয় বিবরণী দাখিল না করার শাস্তি, নির্বাচনের সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ ও
জাল ভোট প্রদান রোধকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
ভোটগ্রহণের সময় সংক্রান্ত গণ-বিজ্ঞপ্তি, ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা,
পুনঃভোটগ্রহণ, পুনর্নিবাচন, প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সংবলিত পোস্টার
প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার এবং ডাকযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে
ফলাফল প্রেরণ। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও সরবরাহ, ব্যালট
পেপারসহ নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ ও যাচাইকরণ, ব্যবহার।
২৪ জানুয়ারি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি সামগ্রী যাচাইকরণ, ব্যালট পেপারসহ
বিভিন্ন ধরনের সিলের গোপনীয়তা রক্ষা, ভোটদান পদ্ধতি, ভোটগণনা, ফলাফল
একত্রীকরণ, সমভোট, একত্রিকরণের পর পুনঃসিল গালাকরণ, নির্বাচনি প্রচারণা
বন্ধের সময়সীমা ও বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন ইত্যাদি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সেল গঠন সংক্রান্ত আদেশ জারি
এবং আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সভা। ২৫
জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনক্রমে ব্যালট পেপার মুদ্রণের জন্য
গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসকে মুদ্রণাদেশ প্রদান।
২৮ জানুয়ারি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বিশেষ সভা, যাচাই বাছাই করা হবে আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তাবিত অর্থের চাহিদা, দেওয়া হবে নির্বাচনি
পর্যবেক্ষকদের অনুমতি।
এরপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহে
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অর্থ বরাদ্দ ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষক
হিসেবে নিয়োগ দেবে ইসি। নির্বাচনের ব্যালট ও নির্বাচনি সামগ্রী মাঠ পর্যায়ে
পাঠানো হবে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণা ২২
জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ
হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
