নিজস্ব
প্রতিবেদক।। কুমিল্লা ইপিজেডে নাসা গ্রুপের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা আদায়ের
দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন চাকরি হারানো শত শত শ্রমিক। রবিবার সকাল ৯টা থেকে
ইপিজেডের ১ ও ২ নম্বর গেইট এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন। এসময়
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গেইট এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
শ্রমিকদের
অভিযোগ, কুমিল্লা ইপিজেডে নাসা গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি গত
তিন মাস ধরে বন্ধ এবং বাকি তিনটি থেকে হাজারো শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
কিন্তু ছাঁটাই শ্রমিকদের সার্বিক চার্জ, আনলিভ, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ কোনো
পাওনাই পরিশোধ করা হয়নি।
শ্রমিকরা জানান, কোম্পানি আগে প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিল ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু এখন মাত্র ২৫
শতাংশ দেওয়ার কথা বলছে। বাকি ৭৫ শতাংশ আদায় হবে কিনা তা নিয়েও তৈরি হয়েছে
অনিশ্চয়তা। অভিযোগ রয়েছে, সার্বিক চার্জ বাবদ বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং
প্রভিডেন্ট ফান্ডের চেক দিলেও ব্যাংকে টাকা মেলেনি।
এদিকে বেপজা কর্তৃপক্ষও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শ্রমিকদের মাঝে।
এ
প্রসঙ্গে নাসা গ্রুপের ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক রোকসানা বেগম বলেন, ১০ বছর কাজ
করেছি। এখন ছাঁটাই করল, অথচ আমাদের পাওনা দিচ্ছে না। প্রভিডেন্ট ফান্ডের
চেক দিয়েছে, ব্যাংকে গিয়ে দেখি টাকা নেই। আমরা কোথায় যাব?
শ্রমিক
সুমাইয়া আক্তার বলেন, তিন মাস ধরে আমরা টাকার অপেক্ষায় আছি। এখন বলে ২৫
শতাংশ দেবে। বাকি টাকা কি আদৌ দেবে? আমাদের পরিবার চলছে কিভাবে, তা তাদের
ভাবনা নেই।
আরেক নারী শ্রমিক শাহানা খাতুন বলেন, সার্বিক চার্জের নামে
আমাদের হাজার হাজার টাকা ঠিকমত দেয়নি। হিসাব চাইলে ঝামেলা করে। পাওনা না
দিয়ে কারখানা বন্ধ করার অধিকার তাদের নেই।
অন্যদিকে রবিবার সকাল ৯টা
থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকেরা
হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পাওনা আদায় ও ছাঁটাই শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবি পূরণ
না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে তাদের।
