রণবীর ঘোষ কিংকর।
কুমিল্লার চান্দিনায় রাতের অন্ধকারে একটি মুদি দোকানে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এলডিপি’র নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই ঘটনায় ইউনিয়ন এলডিপি’র এক নেতাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করা সহ দোকান-পাট বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। এসময় হামলাকারীদের একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা ২টা থেকে বিকাল প্রায় ৪টা পর্যন্ত উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়নের চিলোড়া বাজারে দফায় দফায় ওই সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পুলিশের উপরও হামলা করে। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
হামলায় আহত এলডিপি নেতা মো. ফখরুল ইসলাম (৩৫) গণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি। তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কা জনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। তবে তাদের মধ্যে কেউ গুরুতর নয়। ওই ঘটনায় আরও ৩টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। মোটরসাইকেলগুলো বিএনপি নেতা-কর্মীদের বলে দাবী করেন উপজেলা বিএনপি।
এছাড়া ততক্ষণে বাড়েরা ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ছোটন এর খাবার হোটেল, ণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম এর ভাই হোসাইন এর একটি চা দোকান ভাঙচুর করে বিএনপি সমর্থিত হামলাকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- চিলোড়া বাজার জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য দান অনুদানের যে টাকা পাওয়া যায় সেগুলো ফখরুল ইসলাম এর মুদি দোকানে রাখা হয়। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাত ২:৩০ মিনিটে দোকানের তালা ভেঙে ওই দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় ওই দোকানের ক্যাশ ভেঙ্গে মসজিদ ও দোকানের টাকা নিয়ে যায়। পরদিন রবিবার সিসি ক্যামেরা যাচাই করে দেখা যায় পার্শ্ববর্তী এতবারপুর গ্রামের রোকন এর ছেলে রিফাত (১৫) ওই চুরির ঘটনা ঘটায়।
এব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বাড়েরা ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ছোটন জানান, রবিবার দুপুরে অভিযুক্ত রিফাতকে চিলোড়া বাজারে পেয়ে আটক করা হয়। এসময় উত্তেজিত মানুষ রিফাতকে মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এসময় রিফাত এর পিতা মৎস্যজীবী দল নেতা রোকন এতবারপুর গ্রামের মানিক মেম্বারকে ফোন করে জানান- তার ছেলেকে এলডিপি’র লোকজন মারধর করছে। ওই খবর পেয়ে এতবারপুর, পৌরসভার হারং ও মহারং এলাকার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ী মো. ফখরুল ইসলাম এর বসত বাড়িতে হামলা করে তাকে বেধরক মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে মারধর এবং দোকান ভাঙচুর করে তারা।
তিনি অভিযোগ করেন- এতবারপুর ইউনিয়নের মানিক মেম্বার, তফাজ্জল হোসেন, চান্দিনা পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী নূরু, উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক শরীফ খাঁন, পৌর ছাত্রদল আহ্বায়ক দোলন, এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে ওই হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
অভিযুক্ত চান্দিনা পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী নূরুল ইসলাম মুন্সী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন- আমার মা অসুস্থ থাকায় আমি সারাদিন কুমিল্লাতে আছি। এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
উপজেলা এলডিপি’র সভাপতি একেএম শামসুল হক মাস্টার বলেন- বিএনপি সম্প্রতি সারা দেশে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে কোন প্রার্থী দেয়নি দলটি। যুগপৎ আন্দোলনে আমরা বিএনপি’র সাথে স্বৈরাচার বিরোধী সকল আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। ফলে এই আসনে আমাদের দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এর মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দিলে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শাওন ও তার লোকজন ইচ্ছাকৃত ভাবে এলডিপি’র নেতাকর্মীদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা সব সময় সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে চাই। তবে, আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর লুটপাট হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনী ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছি।
উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কাজী আরশাদ বলেন- চোর সন্দেহে ১২ বছরের একটি ছেলেকে মারধর করার খবর পেয়ে আমাদের কিছু নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে গেলে এলডিপি’র লোকজন আমাদের ৪-৫ জন নেতাকর্মীকে মারধর করে এবং মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয়। এছাড়া এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যায়নি বলে তিনি দাবি করেন তিনি।
এব্যাপারে চান্দিনা থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম রবিবার সন্ধ্যায় জানান- চুরির ঘটনা থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
