বুধবার ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
কুমিল্লার জগন্নাথ মন্দিরের দখলকৃত জায়গা উচ্ছেদ
জহির শান্ত:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৩ এএম আপডেট: ১৪.১১.২০২৫ ১২:৫৬ এএম |


  কুমিল্লার জগন্নাথ মন্দিরের  দখলকৃত জায়গা উচ্ছেদ কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দিরের বেদখল হওয়া সম্পত্তি উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) কুমিল্লা সদর উপজেলার খামার কৃষ্ণপুর এলাকায় অবস্থিত জগন্নাথ দেবের মন্দির সংলগ্ন ৬ শতক জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান। এসময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও এ সংক্রান্ত দায়েরকৃত মামলার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ অনেক বছর যাবত কুমিল্লার জগন্নাথ মন্দিরের ৬ শতক ভূমি দখল করে একটি পক্ষ স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সালে মন্দির কর্তৃপক্ষ ওই জায়গা বুঝে পেতে আদালতে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ ২৪ বছর আইনী লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আদালত মন্দিরের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এরপর হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের আপিলেও রায় বহাল থাকে এবং উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশ প্রদান করা হয়। সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। 
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ৬ শতক ভূমির উপর তিনটি ঘর নির্মাণ করে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছিলো। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে তারা নানা অভিযোগ তুলতে থাকেন। জনি নামে এক যুবক বলেন, এটা আমার দাদির জায়গা। জায়গাটা আমার দাদা কিনে দিয়েছেন। এ সংক্রান্তে সুপ্রীম কোর্টে মামলা চলমান আছে। তারা আমাদেরকে কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ করেই আজকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের আইনজীবী স্বর্ণকমল নন্দী বলেন, ১৬৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লার ঐতিহ্যাহী জগন্নাথ মন্দিরটি ৪০০ একর সম্পত্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মন্দিরের অনেক জায়গাই বেদখল হয়ে গেছে। আজকে এখানে ৬ শতক বেদখল হওয়া জমি উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা হয়। দীর্ঘ ২৪ বছর আইনী লড়াইয়ের পর আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। পরে তারা আপিল করে। অ্যাপিলেট ডিভিশন থেকে আমরা রায় পাাই ২২ মাস আগে। এরপর তাদেরকে বার বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সকল প্রসেস মেনটেইন করে বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান বলেন, আদালতের রায়ের আলোকে আমরা দখল বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। জায়গাটি কুমিল্লা সদর উপজেলার খামার কৃষ্ণপুর মৌজায় জগন্নাথ মন্দিরের একটি নালিশী ভূমি। এ সংক্রান্তে ১৯৯৮ সালে একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতেই অভিযান চালানো হয়। 
দখলকৃতদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানেই উচ্ছেদ অভিযান চলে সেখানেই ভোগদখলকারীরা অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ সত্য নয়। আমরা তাদের কাছে কাগজপত্র দেখতে চেয়েছি; তারা আদালতের স্টে-অর্ডার কিংবা তাদের স্বপক্ষে কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। নিয়ম মেনেই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
বিস্ফোরক-অস্ত্রের হটরুটকুমিল্লা সীমান্ত
আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের অতীত বদনাম ঘুচানোর চেষ্টা হবে
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে একসাথে কাজ করতে হবে: জেলা প্রশাসক
গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির সাক্ষাৎ বুধবার , এরপর তফসিল
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
বিজয় মেলার নামে কুমিল্লায় ‘বাণিজ্যমেলা’র আয়োজন
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় কুমিল্লা মুক্ত দিবস উদ্যাপন
বিস্ফোরক-অস্ত্রের হটরুটকুমিল্লা সীমান্ত
কুমিল্লা মুক্তদিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি
কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বঞ্চিতদের ঐক্যের ঘোষণা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২