
কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলারবাঙ্গরায় এক অটোরিকশাচালককে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা
করে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। নিহত চালকের নাম মাহবুব আলম (৩২)। তিনি
উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। শনিবার
সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন টনকি ইউনিয়নের
বৈলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি খালি জায়গা থেকে তার মরদেহ
উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাসহ একজনকে আটক করে পুলিশে
সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
শুক্রবার রাতে ৩-৪ জনের একটি ছিনতাইকারী চক্র যাত্রীবেশে ভাড়ার কথা বলে
চালক মাহবুব আলমকে বৈলাবাড়ি-মাজুর এলাকার একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে যায়।
সেখানে ছিনতাইকারীরা গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মাহবুব বাধা
দিলে ছিনতাইকারীদের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা গামছা
দিয়ে মাহবুবের গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং
অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
শনিবার সকালে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি
বিক্রির উদ্দেশ্যে বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকায় নিয়ে যায়
চক্রটির এক সদস্য। সেখানে তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়
জনতা তাকে অটোরিকশাসহ আটক করে। সে দাউদকান্দি উপজেলার পাচগাছিয়া গ্রামের
বিল্লাল হোসেনের পুত্র নাইম মিয়া (১৯)। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে
অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো
এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার
তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ে সকল অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানায়, হত্যাকান্ডের
শিকার মাহবুব আলম দীর্ঘ ৭ বছর প্রবাসে ছিলেন। দেড় বছর পূর্বে দেশে এসে তিনি
বিয়ে করেন। তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার স্বামীর শোকে কাতর হয়ে বারবার মোর্চা
যাচ্ছেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আলম দৈনিক
কুমিল্লার কাগজকে জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
পাঠানো হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের
সাথে জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত
রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
