
দর্শকদের
কেউ কেউ বাড়ির পথ ধরেছেন তখন, হাল ছেড়ে দিয়েছেন মাঠে থাকা আরও অনেকে।
সবাইকে হুট করে থমকে দাঁড়াতে হলো কিছুক্ষণের জন্য। শরীফুল ইসলাম যে পরপর
দুই বলে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার নেই ৭ উইকেট!
কাজটা তখনও
বাংলাদেশের জন্য কঠিন। ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার কেবল ৯ রান। তবু শরীফুলের
জাগিয়ে দেওয়া বিশ্বাসের বার্তাটা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।
পরের প্রতিটি বলেই কৌতূহলী চোখ, এই বুঝি কী হলো!
মোস্তাফিজুর রহমান পরের
ওভারে এসে নিজের বলে নিজেই ক্যাচটা হাতে জমাতে পারলেন না। আফসোসের সুরটা
পুরো শেরেবাংলায়ই যেন বলে উঠল একসঙ্গে, ‘ইশ!’
আফসোস কমাতে আবার এলেন
শরীফুল। এবার উইকেট মেডেন, তাঁর বলে বেন ডোয়াশিসের দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন
মেহেদী হাসান। আর ২ উইকেট দরকার, বাংলাদেশ কি পারবে?
কাজটা তখনও কঠিন।
এর মধ্যেই তানজিদ হাসান ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন। ২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার
মাত্র ৫ রান। তার চেয়েও বড় দুশ্চিন্তা উইকেটে আছেন সেঞ্চুরি করা কুপার
কনোলি। তাঁকে কে ফেরাবেন? এবার ত্রাতা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
তাঁর অফ
স্টাম্পের অনেক বাইরের বল টেনে স্টাম্পে নিয়ে এলেন কনোলি। চাপেই কি না কে
জানে। বাংলাদেশের আর একটা উইকেটই দরকার ছিল শেষ ওভারে, অস্ট্রেলিয়ার ৩ রান।
কিন্তু তাসকিন আহমেদের তৃতীয় বলে অ্যাডাম জাম্পা কাভার দিয়ে বল বাউন্ডারি
পাঠানোর সঙ্গে শেষ হয় সব নাটকীয়তা।
নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরেও ১ উইকেটে
হেরে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করার স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। ২৭৫ রান তাড়া করতে
নামা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের বেশির ভাগ সময়ই অবশ্য সেই সম্ভাবনা তেমন ছিলও
না।
আগের দুই ম্যাচে শুরুতে অস্ট্রেলিয়াকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়ে
বাংলাদেশ আজ পঞ্চম ওভারে গিয়ে পায় প্রথম উইকেট, ততক্ষণে অস্ট্রেলিয়া করে
ফেলেছে ৪০ রান। শেষের নাটকীয়তার নায়ক শরীফুলই ওই ওভারে ২ উইকেট নিয়ে প্রথম
ধাক্কাটা দেন অস্ট্রেলিয়াকে।
পরে অ্যালেক্স ক্যারির দুর্দান্ত ক্যাচ
নিয়েছেন সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান উইকেট নিয়ে আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন। কিন্তু
একপ্রান্ত আগলে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে নিয়ে গেছেন কুপার কনোলি। আগের ১১
ওয়ানডেতে মাত্র এক ফিফটি করা কনোলি আজ পান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিও।
৪৫তম
ওভারের শেষ তিন বলে তাসকিনকে টানা তিন ছক্কা মেরে খেলাটা প্রায় একা হাতেই
শেষ করে দিয়েছিলেন কনোলি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচটাতে
শরীফুল ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট পেয়ে যাওয়ায় তৈরি হয় শেষের ওই নাটকীয়তা।
বাংলাদেশ
আজ ব্যাটিংয়েও শুরু করেছিল দুশ্চিন্তা সঙ্গী করেই। সৌম্য সরকার প্রথম বলেই
আউট হয়ে গিয়েছিলেন। দলের রান যখন ৬১, ততক্ষণে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে ৩
উইকেট। সেখান থেকে মাঝের ওভারগুলোই বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজির পথে এগিয়ে দেয়।
এর
কৃতিত্বটা বেশি তাওহিদ হৃদয়ের। তিনি আর লিটনই রানের চাকা সচল রাখেন।
দুজনের ৯২ রানের জুটিতে বাংলাদেশ এগোচ্ছিল ভালোভাবেই। কিন্তু তাতে বাধ সাধে
লিটনের পেশির টান। আর্দ্রতায় তাঁর অস্বস্তিটা স্পষ্ট ছিল শুরু থেকে, শেষ
পর্যন্ত লিটনকে মাঠও ছাড়তে হয়।
তাতে অবশ্য বাংলাদেশের রান তোলার গতিতে
তেমন প্রভাব পড়েনি। হৃদয়ের সঙ্গী হয়ে দলের রান এগিয়ে নেন মোসাদ্দেক হোসেন।
এই সিরিজ দিয়েই ওয়ানডেতে ৪ বছর পর ফেরা প্রথম ম্যাচেই ম্যাচসেরা হয়ে
রাঙিয়েছেন তিনি। আজও দলের বিপদের সময়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে ৫১ বলে ৫ চার ও ১
ছক্কার ইনিংসে ৫৬ রান করেছেন।
তিনি উইকেটে শেষ পর্যন্ত থাকলেও হৃদয় আউট
হয়ে যান আগেই। ৮৮ বলে তাঁর ব্যাটে আসে ৮৩ রান। ৪৯ ওভারে হৃদয় আউট হলে আবার
ব্যাট করতে নামেন লিটন।
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেই নিজের একটা
অপূর্ণতা ঘুচিয়েছেন লিটন, ১১ বছরে মিরপুরে ২৭ ওয়ানডে খেলে তাঁর ফিফটি ছিল
না এতদিন। আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এসে তা পেয়েছেন।
তাতে বাংলাদেশ যে সংগ্রহ পেয়েছিল, তা খুব বড় ছিল না। শেষের নাটকীয়তার পর আফসোসটা একটু হয়তো বাড়তেই পারে, রানটা যদি আরেকটু বেশি হতো!
