উদ্ভাবনী
চিন্তা, সৃজনশীল মেধা আর তারুণ্যের অদম্য স্পৃহা নিয়ে আজ কুমিল্লার বরুড়া
উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হলো "ঝঃধৎঃঁঢ়, ঝপরবহপব চৎড়লবপঃ ধহফ
ওহহড়াধঃরড়হ ওফবধ ঝযড়পিধংরহম চৎড়মৎধস"। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের
আওতায় এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ঊঊঝঝ) ও এসইডিপির আয়োজনে
অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরউদ্ভাবনী প্রজেক্ট দেখে মুগ্ধ হলেন
সকলে।
স্বপ্নের মঞ্চ, মেধার উৎসব,আজ বরুড়া উপজেলা পরিষদ হলরুম যেন পরিণত
হয়েছিল এক তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের মিলনমেলায়। উপজেলার বিভিন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের তৈরি বিজ্ঞান
প্রজেক্ট, স্টার্টআপ আইডিয়া ও উদ্ভাবনী ভাবনা উপস্থাপন করে। প্রতিটি স্টলে
ছিল তরুণ মেধার স্পন্দন কেউ এনেছে কৃষি প্রযুক্তির নতুন ধারণা, কেউ পরিবেশ
রক্ষার উদ্ভাবনী সমাধান, আবার কেউ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে
রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা।
ইউএনও আসাদুজ্জামান রনির চোখে তরুণ
উদ্ভাবকরা,অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল যখন সভাপতি ও উপজেলা
নির্বাহী অফিসার *মো. আসাদুজ্জামান রনি* প্রতিটি প্রজেক্ট স্টল ঘুরে ঘুরে
দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের উদ্ভাবনের গল্প শোনেন। একজন
সরকারি কর্মকর্তার এই আন্তরিক আগ্রহ শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তোলে
অফুরন্ত অনুপ্রেরণা।
প্রজেক্টগুলো পরিদর্শন শেষে ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি
বলেন, "আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তাদের মেধা ও
উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। প্রতিটি প্রজেক্টে রয়েছে
একটি স্বপ্ন, একটি সমাধান। এই তরুণরা যদি সঠিক সুযোগ ও সহযোগিতা পায়, তাহলে
বরুড়া তথা সারা বাংলাদেশকে তারা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।"
তিনি
আরও বলেন, "বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের চর্চা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখলে
চলবে না। এই সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে হবে ঘরে ঘরে, গ্রামে গ্রামে। আজকের এই
আয়োজন সেই পথেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।"
উজ্জ্বল উপস্থিতি,
অনুপ্রেরণার বার্তা,অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত
মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি। বিশেষ অতিথি করা হয়েছিল
বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম।
আয়োজকদের
প্রতিশ্রুতি,এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ঊঊঝঝ) ও এসইডিপির পক্ষ
থেকে জানানো হয়, এই ধরনের উদ্ভাবন প্রদর্শনী কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা
হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ সারা দেশের
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তুলতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
"মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ
সবার আগে বাংলাদেশ" এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে বরুড়ার তরুণরা আজ প্রমাণ
করল, প্রতিভার কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। উপজেলার একটি হলরুম থেকে উঠে আসা এই
উদ্ভাবনী স্বপ্নগুলো একদিন জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়াবে এই প্রত্যাশা নিয়েই
শেষ হলো আজকের এই অনুপ্রেরণার উৎসব।
