
কুমিল্লা
মহানগরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিক
সমাধান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে এক
অংশীজন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় নগরীর সড়ক, ড্রেনেজ, ট্রাফিক
ব্যবস্থাপনা, পার্কিং সংকট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবেশ ও নগর
সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মিলনায়তনে আয়োজিত এ
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো.
ইউসুফ মোল্লা টিপু। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
(ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন চিশতী,
মো. আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের
কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
‘বাংলাদেশ
রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট
(আরইউটিডিপি)’-এর আওতায় আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের চারটি দলে ভাগ
করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে দলগুলো কুমিল্লা মহানগরের
বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক সমাধান ও উন্নয়ন
প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে। পরে প্রতিটি দলের দলনেতা তাদের সুপারিশ উপস্থাপন
করেন। গ্রুপ ‘এ’-এর দলনেতা রোটা. জামাল আহমেদ, গ্রুপ ‘বি’-এর দলনেতা ফরিদা
আক্তার এবং গ্রুপ ‘সি’-এর দলনেতা কান্দিরপাড় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব
মাওলানা ইব্রাহিম নগর উন্নয়নের বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রস্তাব তুলে ধরেন।
গ্রুপ ‘ডি’-এর দলনেতা ও সৃষ্টির পরিচালক সালমা আক্তার অন্যান্য সকল
প্রস্তাবের পাশাপাশি কুমিল্লাকে একটি পরিকল্পিত, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে
রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বমানের একটি পার্ক, আধুনিক
হাসপাতাল এবং সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একটি মেট্রো স্কুল অ্যান্ড কলেজ
প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।
কর্মশালায় উত্থাপিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ
সুপারিশের মধ্যে ছিল-সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ট্রাফিক
ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, নির্ধারিত পার্কিং জোন স্থাপন, পরিকল্পিত বাস
টার্মিনাল নির্মাণ, কাঁচাবাজার আধুনিকায়ন, হিমাগার নির্মাণ, সুপার মার্কেট
স্থাপন, জলাধার সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, স্ট্রিট লাইটিং উন্নয়ন এবং
বৈদ্যুতিক তার ও পিলারমুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা।উপস্থিত সুধীজন মনে
করেন কর্মশালায় প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা সিটি
কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে এবং একটি আধুনিক, টেকসই ও
বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় সরকার
বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন আরইউটিডিপি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু
সহনশীল নগর অবকাঠামো ও সেবা সম্প্রসারণ এবং নগর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি
করা। জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত ছয় বছর মেয়াদে বাস্তবায়িতব্য এ
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯০১ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ঋণ সহায়তা রয়েছে। উল্লেখ্য প্রকল্পের
আওতায় দেশের নির্বাচিত ৮১টি পৌরসভা ও ৬টি সিটি কর্পোরেশনে সড়ক, ড্রেন,
স্ট্রিট লাইট, সেতু-কালভার্ট, বাস টার্মিনাল, কিচেন মার্কেট, সুপার
মার্কেট, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, আধুনিক পাবলিক টয়লেট এবং ফুটপাত নির্মাণ
ও উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
