কৃষি এবং মৎস্য ও
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের
ফলে অম্লতা বেড়ে মাটির উর্বরতা কমে গেছে। এই মাটির উর্বরতা আমাদের ফিরিয়ে
আনতে হবে।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর খামারবাড়ির মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন
ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক কারিগরি কর্মশালায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত
সচিব (সম্প্রসারণ) মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে
উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান
কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
গোলাম হাফিজ কেনেডি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর
রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সাবেক মহাপরিচালক ড.
মো. শহিদুল ইসলাম।
মন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে মাটির পিএইচ মান
বৃদ্ধি করতে হবে। মাটির উর্বরতা বাড়ালে দেশের কৃষি এগিয়ে যাবে। এ বিষয়ে
বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসতে হবে। কৃষি দাঁড়ালে এ দেশের ৭৫ ভাগ মানুষের অর্থনীতি
দাঁড়িয়ে যাবে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
মাটি ও কৃষিবিজ্ঞানীদের
উদ্দেশে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘পৃথিবীর যে দেশগুলো ধনী, তারা বছরের
বেশিরভাগ সময় বরফে ঢাকা থাকে। আমাদের দেশে ১২ মাস ফসল ফলে। আমাদের এই সুযোগ
কাজে লাগাতে হবে।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আমাদের। এই পৃথিবী
আমাদের। চলেন, সবাই মিলে আগামীকে কিছু দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিই। আমি আশা
করি, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সবাই মিলে চলেন আমরা এগিয়ে যাই। আমরা
সবাই বিশ্বাস করি, আগামী প্রজন্মের জন্য আরেকটা সুন্দর বাংলাদেশ, সুন্দর
পৃথিবী রেখে যেতে হবে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও কর্তব্য।’
মোহাম্মদ
আমিন উর রশিদ বলেন, ‘মাটিকে নতুন করে সাজাতে (পিএইচ মান বৃদ্ধি) হবে।
সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একটি গবেষণা ফলাফল বের করতে হবে। এই বছরেই আমি
দুটি জায়গায় গবেষণা করার জন্য বলেছি—এক ফসল থেকে আরেক ফসল ১৫ দিনের ব্যবধান
পাবেন। এক বিঘা জমির ওপর আমাকে গবেষণাটা করে দেন। শুধু ৪.৫ পিএইচ-এর
ভূমিকে চিহ্নিত করেন। তাহলেই হয়ে গেল, আমি আশা করি, ভালো কিছু হবে।’
মাটির
গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার পেছনে কীটনাশকও অনেকাংশে দায়ী ইঙ্গিত করে মন্ত্রী
বলেন, ‘এ দেশে বালাইনাশকের অবস্থা দেখেন। আমি মনে করি, ওটা আরেকটা কঠিন
জগৎ; আবহাওয়া ধ্বংস হচ্ছে, ফসল ধ্বংস হচ্ছে, মাটি ধ্বংস হচ্ছে ও
মানবস্বাস্থ্য ধ্বংস হচ্ছে। পৃথিবীতে কি বালাইনাশক কেউ ব্যবহার করে না?
করে। আমাদের গুণগত মান আরও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি
মনে করি।’
