নিজস্ব প্রতিবেদক।। কোরবানির পশুর স্থায়ী হাটের পাশাপাশি অস্থায়ী হাটও জমে উঠতে শুরু করেছে কুমিল্লায়। পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে পশুর সরবরাহ ও ক্রেতাদের উপস্থিতি। এবার কুমিল্লা জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৪৩২টি পশুর হাট বসছে কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে। এসব হাটে গরু ও ছাগলের পাশাপাশি মহিষ, ভেড়া, উটসহ বিভিন্ন ধরনের কোরবানিযোগ্য পশুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা যাচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে জেলার বড় বড় স্থায়ী সাপ্তাহিক পশুর হাটগুলোতে ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে কেনাবেচা। একই সঙ্গে শনিবার থেকে জেলার বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর হাটেও পশু তুলতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে পশু এনে হাটে তোলা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি হাটেই এখন দেখা যাচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। দর কষাকষি, হাকডাক আর পশু দেখাদেখিতে জমে উঠছে কোরবানির হাটের পরিবেশ।
পছন্দের পশু কিনতে ক্রেতাদের অনেকেই ছুটছেন এক হাট থেকে অন্য হাটে। কেউ খুঁজছেন বড় আকৃতির গরু, কেউবা পরিবার ও বাজেট অনুযায়ী মাঝারি বা ছোট আকারের পশু। দামে, মানে ও আকারে সামঞ্জস্য রেখে পছন্দের পশু বেছে নিতে অনেকেই সময় নিয়ে একাধিক হাট ঘুরছেন। ক্রেতারা বলছেন, এবার পশুর সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম নিয়ে রয়েছে কিছুটা চিন্তা। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও খামারিরা জানান, কোরবানির বাজারে সবসময় মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকে। কারণ তুলনামূলক কম দামে এসব পশু কিনতে পারেন অধিকাংশ ক্রেতা। ফলে চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঝারি গরুর দামও কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। বড় গরুর ক্রেতা সীমিত হলেও মাঝারি গরুর বাজার এখন সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত।
এবার বাজারে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু উঠেছে। দেশি জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকলেও উন্নত জাতের ষাঁড় গরুও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন হাটে। খামারিদের দাবি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে লালন-পালন এবং দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করা পশুর চাহিদা এবার ভালো। ফলে বাজারের পাশাপাশি খামারেও বিক্রি বাড়ছে।
অন্যদিকে হাটের ভিড় ও নানা ধরনের ভোগান্তি এড়াতে অনেক ক্রেতা সরাসরি খামারে গিয়ে পশু কিনছেন। খামারে গিয়ে নিজের পছন্দমতো পশু দেখে, যাচাই করে এবং দরদাম করে কেনাকাটাকে অনেকেই বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন। এতে যেমন সময় বাঁচছে, তেমনি হাটের অতিরিক্ত ভিড়ও এড়ানো যাচ্ছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবার অনলাইনেও জমে উঠেছে পশু কেনাবেচা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খামারিরা ছবি, ভিডিও ও পশুর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করছেন। সেসব দেখে অনেক ক্রেতাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনলাইনে পশু কেনার ক্ষেত্রে। ফলে প্রচলিত হাটের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও হয়ে উঠছে কোরবানির পশু বিক্রির আরেকটি বড় মাধ্যম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে কুমিল্লার পশুর হাট। শেষ মুহূর্তে ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
