নিজস্ব
প্রতিবেদক।। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ খুলে দেওয়া হচ্ছে পণ্যবাহী
চালকদের বহু প্রতীক্ষিত অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার
প্রায় দুই বছর পর অবশেষে চালকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে
নির্মিত এই আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বিশ্রামকেন্দ্র। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই
উচ্ছ্বাস দেখা গেছে দূরপাল্লার পণ্যবাহী গাড়িচালকদের মাঝে। ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের কুমিল্লার নিমসার এলাকায় নির্মিত এই বিশ্রামাগারে থাকছে চালকদের
আরাম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। বিশ্রামের
ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং, নামাজের ঘর, গোসলখানা, ক্যান্টিন, চিকিৎসা সেবা
কেন্দ্রসহ নানা সুবিধা থাকায় এটি চালকদের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্র
হিসেবে কাজ করবে। একইসঙ্গে দেশের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশের
বিশ্রামাগারও চালু করা হচ্ছে।
আজ ২০ মে থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে
চলাচলকারী দূরপাল্লার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লংভেহিকেলসহ পণ্যবাহী যানবাহনের
চালকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিশ্রামাগার খুলে দেবে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ
বিভাগ। দীর্ঘ যাত্রাপথে ক্লান্ত চালকদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ
তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এক
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মহাসড়কে
চলাচলকারী পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের কথা বিবেচনা করে কুমিল্লা, সিলেট, খুলনা ও
রাজশাহীতে নির্মিত চারটি বিশ্রামাগার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার উপযোগী
করে চালু করা হচ্ছে। ঈদকেন্দ্রিক ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘপথে পণ্য পরিবহনকারী
চালকদের চাপ কমানো এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
ঢাকা
থেকে চট্টগ্রামগামী লংভেহিকেল চালক জুলফিকার আলী বলেন, বিশ্রামাগার চালুর
খবর অত্যন্ত আনন্দদায়ক। পণ্য পরিবহনে দীর্ঘ যাত্রায় নানান সময় শরীরে
ক্লান্তি চলে আসে। তখন চাইলেও কোন নিরাপদ স্থান খুঁজে না পেয়ে বাধ্য হয়ে
সড়কের পাশেই পার্কিং করে একটু বিশ্রাম নিতে হয়। তখনই না সময় চোর, ডাকাত এবং
ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয়। এছাড়াও নানান সময় চাঁদাবাজির কবলেও পড়তে হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝামাঝি স্থানে বিশ্রামাগারটি হওয়া এখন আমাদের
একটি নিরাপদ বিশ্রামাগারের জায়গা হলো। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
আবুল
খায়ের নামে কাভার্ডভ্যান চালক জানান, রাতে চোখে ঘুম ঘুম পরিস্থিতি নিয়েও
গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়। নিরাপদ জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন
হোটেল রেস্তোরাঁয় টাকা নিয়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলো এবং গোসল সারতে হয়। হয়তোবা
পুকুর কিংবা খালে। বিশ্রামের ব্যবস্থাতো একেবারে কম। গাড়িতেই ঘুমাতে হয়।
বিশ্রামাগারটি খুলে দেয়ার পেয়েছি। এটি খেলে দিলে আমাদের অনেক সমস্যা
ভোগান্তি কমে আসবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে সম্পূর্ণ
বিনামূল্যে চালকরা এ বিশ্রামাগারের সব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো
ধরনের ফি নেওয়া হবে না। চালকদের আগ্রহ বাড়াতে এবং সেবাটি জনপ্রিয় করতে
শুরুতে সড়ক বিভাগের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বিশ্রাম, পার্কিংসহ সব
সুবিধা দেওয়া হবে। তবে ভবিষ্যতে ইজারাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে
সামান্য পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।
কুমিল্লা সড়ক ও
জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ঈদুল আযহা উপলক্ষে পণ্যবাহী চালকদের জন্য সম্পূর্ণ
বিনামূল্যে বিশ্রামাগারটি চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, এতদিন ক্লান্ত
চালকদের মহাসড়কের পাশে বা গাড়ির ভেতরেই ঝুঁকি নিয়ে বিশ্রাম নিতে হতো। এতে
অনেক সময় তারা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। এমনকি ক্লান্তিজনিত
কারণে ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনা, ঝরেছে প্রাণও। এই বিশ্রামাগার চালুর মাধ্যমে এসব
ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার নিমসার
এলাকায় চালকদের জন্য আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায়
১৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে চারতলা বিশিষ্ট দুটি ভবন। যেখানে একসঙ্গে
প্রায় ১০০ জন চালক অবস্থান করতে পারবেন। এছাড়া রয়েছে শতাধিক ট্রাক
পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং চালকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
এই
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল পণ্যবাহী চালকদের জন্য একটি নিরাপদ,
স্বস্তিদায়ক ও আধুনিক বিশ্রামব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে তারা দীর্ঘ পথ
পাড়ি দেওয়ার পর ক্লান্তি দূর করে পুনরায় সতেজ ও নিরাপদভাবে গাড়ি চালাতে
পারেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা করছেন এ উদ্যোগ শুধু চালকদের স্বস্তিই বাড়াবে
না, বরং মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে।
