নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় হিজড়াদের মাদক ব্যবসার ভাগ বাটোয়ারা
নিয়ে অন্ত:কোন্দলের জেরে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয় এনামুল হক শিশির
ওরফে মাহী নামে এক যুবককে। ঘটনার চার দিন পর গত রবিবার (১৭ মে) বিকালে
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার
মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির হিজড়াকে
গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের একটি টিম। এর আগে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আরো এক
হিজড়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী বুড়িচং
উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের ছেলে। সে হিজড়া
না হয়েও মাহী নাম নিয়ে হিজড়াদের সাথে থাকতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ১৩ মে
সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মধ্যবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের
সামনে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন হিজড়া। পরে হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে
র্যাবের পক্ষ থেকে প্রেস কনফারেন্সে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র
এএসপি মিঠুন কুমার কুন্ডু জানান, গত ১৮ মে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা উপজেলা
থেকে র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় জহির হিজরাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর
প্রাথমিকভাবে সে হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মাদক
ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মাহি হিজরা কে পুড়িয়ে মারা হয়। এই ঘটনায়
দোলা হিজরা নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার বরাতে
বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, বুড়িচং সদর ইউনিয়নের সরকারি একটি
জায়গায় কয়েকজন হিজরা বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে এনামুল হক শিশির হিজরা না
হয়েও মাহী নামে পরিচয়ে তাদের সঙ্গে থাকতেন। এ নিয়ে হিজরাদের মধ্যে বিরোধ ও
অন্তর্কোন্দল দেখা দেয়। গত ১৩ মে সকালে এনামুল হক শিশিরের সঙ্গে কয়েকজন
হিজরার বাকবিতন্ডা হয়। এর একপর্যায়ে হিজরারা এনামুল হকের শরীরে পেট্রল
ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে হিজরাই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয় । সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
বুড়িচং থানার ওসি
লুৎফর রহমান আরো বলেন, এই ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বুড়িচং
থানায় তিনজনকে এজহার নামীয় অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনের নামে একটি হত্যা মামলা
দায়ের করেছেন। মামলার পর দোলা নামে এক হিজড়াকে আটক করা হয়েছে।
