
বহু প্রতিক্ষিত রাত শবে ক্বদর আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই
আমাদের সামনে উপস্থিত হবে। যে রাতকে মহান আল্লাহ ঘোষনা করেছেন হাজার মাসের
ইবাদতের চেয়েও ঐ রাতের ইবাদত উত্তম। সুবহানাল্লাহ। যদি এক হাজার মাসও ধরি
তাহলে হয় ৮৩ বৎসর ৪ মাস প্রায়। প্রায় প্রতিটি মসজিদে ২০ রাকাত তারাবীহর
মাধ্যমে কুরআনুল কারিমের খতম করা হয়। সবাই ছুটে চলে আসে আল্লাহর ঘর মসজিদে
গুনাহ মাফ পাওয়ার আশায়। মহান আল্লাহ বিশেষ ফেরেশতার দল হযরত জিব্রাইল আঃ এর
নেতৃত্বে জমিনে প্রেরণ করেন মানুষের গুনাহ মাফের জন্য এবং রহমত ও বরকত
লাভের জন্য। তাঁরা মানুষের জন্য গুনাহ মাফের দোয়া করতে থাকবে আর রহমত ও
বরকত কামনা করতে থাকবে। এই ধারা চলতে থাকবে সরা সাত্র ব্যাপি।
নূর নবিজী
দঃ এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি যে ব্যাক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমানের সহিত ও
সাওয়াব লাভের আশায় রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় (ইবাদত) করে মহাল আল্লাহ
তার পূর্ববর্তী জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। সুবহানাল্লাহ।
এ রাতের
ফজিলত সমূহঃ ০১. আল্লাহ তায়ালা পুরা কুরআনুল কারিমকে লাউহে মাহফুজ থেকে
প্রথম আসমানে নাযিল করেণ। ০২. এ এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও
উত্তম। ০৩. এ রাতে অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসে এবং তারা দুনিয়ার
কল্যাণ, রহমত ও বরকত বর্ষণ করতে থাকে। ০৪. এটা বিশেষ শান্তি বর্ষণের রাত।
০৫. এ রাতে ইবাদতকারী বান্দাদেরকে ফেরেশতারা জাহান্নাম থেকে মুক্তির বাণী
শুনায়।
এ রাতের ইবাদত সমূহঃ কুরআনুল করিম তেলাওয়াত করা। বেশি বেশি দরুদ
শরিফ পড়া। সালাতুত তাসবীহ আদায় করা। তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। কবরস্থান ও
মাজার শরিফ যিয়ারত করা। মিলাদ কিয়াম আদায় করা। যিকির আযকার করতে থাকা।
সাধ্যমত দান করা।
সালাতুত তাসবীহ আদায় করার নিয়ম: প্রথমে নিয়্যত করবে
এভাবে যে, আমি সালাতুত তাসবীহ চার রাকাত নামাজ কিবলামুখি হয়ে মহান আল্লাহর
সন্তুষ্টির জন্য আদায় করছি আল্লাহু আকবার। তারপর ছানা পড়ার পূর্বে এই
তাসবীহ পড়বে ১৫ বার। "সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা
ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।"
ছানা পড়ে সুরা ফাতিহা ও যে কোন একটি সুরা
পড়ে আবার ঐ তাসবীহটি পড়বে ১০ বার। তারপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ তিনবার
পড়ে ঐ তাসবীহ পড়বে ১০ বার। রুকু থেকে উঠে সামিয়াল্লাহ হুলিমান হামিদাহ,
রাব্বানা লাকাল হামদ পড়ার পর ঐ তাসবীহ পড়বে ১০ বার। এরপর প্রথম সেজদায় গিয়ে
সেজদার তাসবীহ তিনবার আদায় করে ঐ তাসবীহ পড়বে ১০ বার। সেজদা থেকে উঠে বসে ঐ
তাসবীহ পড়বে ১০ বার। দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে সেজদার তাসবীহ আদায় করে ঐ তাসবীহ
পড়বে ১০ বার। সেজদা থেকে তাকবীর বলে সোজা দাঁড়িয়ে ঐ তাসবীহ পড়বে ১৫ বার।
বাকী আমলগুলো যথানিয়মে করতে থাকবে। এভাবে তাসবীহ পড়লে প্রতি রাকাতে হবে ৭৫
বার আর মোট চার রাকাতে হবে ৩০০ বার।
রাসুল কারিম দঃ এরশাদ করেছেন- কোন
ব্যক্তি যদি পারে সে যেন এই নামাজটি প্রতিদিন একবার হলেও আদায় করে। যদি
সম্ভব না হয় তাহলে সপ্তাহে একবার। তাও যদি না হয় তাহলে মাসে একবার। তাও যদি
না হয় তাহলে বছরে একবার। তাও যদি না হয় তাহলে জীবনে একবার হলেও যাতে আদায়
করে। এবার বুঝতেই পারছেন। কতটুকু রহমহ ও বরকতময় হলে স্বয়ং রাসুল করিম দঃ
এভাবে তাগীদ দেন।
আসুন আমরা সবাই শবে ক্বদরকে যথাযথ ভাবে পালন করি ইবাদত
বন্দেগীর মাধ্যমে। কোন প্রকার অহেতুক আড্ডা, মোবাইল ব্যস্ততা, অযথা
ঘুরাফেরা যেন আপনার আমার এই সুযোগকে বরবাদ করে না দেয়।
