
মাঠে
ঢুকেই হনহন করে উইকেটের দিকে হাঁটা দিলেন মাইক হেসন। মাঠের মাঝখানে গিয়ে
গভীর মনোযোগে পরখ করলেন উইকেট। ক্রমে পাকিস্তান কোচের সঙ্গী হলেন অধিনায়ক
শাহিন শাহ আফ্রিদি থেকে শুরু করে দলের অনেকেই। গতবছর যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল
তাদের, মিরপুরের উইকেট নিয়ে সম্ভবত আতঙ্কই ভর করেছিল তাদের মনে!
গত
জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল পাকিস্তান দল। তিন
ম্যাচের সিরিজের সব ম্যাচই ছিল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। প্রথম
ম্যাচে ১১০ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭ উইকেটে হেরেছিল পাকিস্তানিরা, পরের ম্যাচে
১৩৪ রান তাড়ায় হেরেছিল ৮ রানে। সিরিজ হারার পর শেষ ম্যাচে তুলনামূলক ভালো
উইকেটে ১৭৮ রান তুলে ৬৮ রানের জয় পেয়েছিল তারা।
সেবার উইকেটের আচরণে
ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তানের কোচ হেসন বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের
জন্য এমন উইকেট ‘মানসম্মত’ নয় এবং এই ধরনের উইকেট ‘অগ্রহণযোগ্য।’
এবার উইকেট দেখে মন ভরেছে হেসনের। মিরপুরে সোমবার অনুশীলনের আগে পাকিস্তানের কোচ বললেন, এরকম উইকেট দুই দলের জন্যই ভালো।
“এবার
নিশ্চিতভাবেই উইকেট আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে, বেশ ঘাসের ছোঁয়া আছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বেশ অনেক দিন ধরেই এখানকার উইকেট খুব একটা ভালো নয়। তবে
এখন আমার মনে হয়… গত বিপিএলেও দেখেছি, পিচ বেশ ভালো ছিল। এবারও উইকেটে বেশ
ঘাসে ঢাকা।”
“আশা করি, এখানে ব্যাট-বলের সত্যিকার লড়াই হবে। দুই দলই এই
উইকেটে খেলে উপকৃত হবে। উভয় দলই ভালো ক্রিকেট উইকেটে খেলতে চায় ও
চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চায়। এই মুহূর্তে সেরকম হবে বলেই মনে হচ্ছে।”
পাকিস্তানের
বিপক্ষে ওই সিরিজের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তির কথা
শোনা যায়নি তখন। তবে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের
বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও খুশি ছিলেন না কোচ ফিল সিমন্স। মিরপুরের মন্থর, নিচু
বাউন্স ও টার্নিং উইকেট নিয়ে হতাশা শোনা গিয়েছিল তার কণ্ঠে। এবার তিনিও
উইকেট দেখে খুশি।
হেসনের মতো বিপিএলের উইকেটগুলোর কথা বললেন সিমন্সও। গত
শনিবার বিসিএল অল স্টার্স দলের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচও তিনি
দেখেছেন। এবার উইকেট দেখে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ কোচ।
“উইকেট এখন আগের চেয়ে
অনেক ভালো মনে হচ্ছে। বিপিএলের শেষ ভাগ দেখেছি আমি, এমনকি দুই দিন আগের
ম্যাচটিও, উইকেট এখন অনেক ভালো মনে হচ্ছে। ক্রিকেটার হিসেবে আমরা ভালো
উইকেটেই খেলতে চাই, যেন আমাদের স্কিলের সত্যিকারের পরীক্ষা হয়। এবারের
উইকেট অনেক ভালো মনে হচ্ছে। দেখা যাক, কী হয়।”
উইকেট আসলেই কতটা ভালো, বোঝা যাবে বুধবার থেকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ সেদিনই। পরের দুই ম্যাচ শুক্রবার ও রোববার।
