সংসারের
অভাব দূর করতে মাত্র দুই মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন রুবেল মিয়া (২২)।
বাবা সাইফুল ইসলাম আশায় ছিলেন, একমাত্র ছেলে কাজ করে টাকা পাঠালে অভাব
ঘুচবে। কিন্তু সেই আশা এখন কবরের অন্ধকারে। কুমিল্লার মুরাদনগরে পাওনা
মাত্র কয়েকশ টাকার জেরে সহকর্মীর লোহার রডের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ
নির্মাণ শ্রমিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার
নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জুর গ্রামের বেলতলী বাজারে একটি ভাড়া বাসায়
থাকতেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থেকে আসা কয়েকজন শ্রমিক। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা নিয়ে রুবেল মিয়ার সাথে কথা কাটাকাটি হয় একই
এলাকার শ্রমিক আক্কাস আলীর। তর্কের এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে লোহার বস্তু
দিয়ে রুবেলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন আক্কাস। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন
রুবেল। সহকর্মী কামাল মিয়া ঘরে ঢোকার সময় ঘাতক আক্কাসকে দ্রুত পালিয়ে যেতে
দেখেন। পরে উদ্ধার করে দেবিদ্বার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা রুবেলকে
মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক আক্কাস আলী একই উপজেলার চন্দনা উজিরপুর গ্রামের
শাহাদাত মিয়ার ছেলে।
ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন বাবা সাইফুল ইসলাম।
কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, "কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। দুই মাস
আগে ছেলেকে মুরাদনগরে পাঠিয়েছিলাম একটু সুখের আশায়। এখন সে লাশ হয়ে ফিরল।
আমার সব শেষ হয়ে গেল।"
এ ঘটনায় নিহতের বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে
বুধবার রাতে মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান
চালিয়ে রাতেই ঘাতক আক্কাস আলীকে গুঞ্জুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার এসআই আব্বাস কবির চৌধুরী জানান,
সামান্য পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংসতা ঘটেছে। প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদেই আক্কাস আলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
