
একের
পর এক জরিমানা, অর্থদণ্ড ও মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটর ও মাটিবাহী
ট্রাক্টর জব্দ করার পরও বন্ধ হচ্ছেনা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তিন ফসলি
জমির টপসয়েল কাটা। উপজেলা প্রশাসন যখনই মাটির কাটার সংবাদ পাচ্ছেন তখনই
ছুটে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে। তারপরও লাগাম টানা যাচ্ছে না। মহামান্য হাইকোর্টের
আদেশ অমান্য করে আবাদযোগ্য কৃষিজমির মাটিকাটার ঘটনায় জোড়কানন (পশ্চিম)
ইউনিয়নের মজলিশপুর এলাকায় আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) অভিযান চালিয়ে মজলিশপুর
গ্রামের জমির মালিক মোহাম্মদ রফিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মাটি কাটার
কাজে ব্যবহৃত ১ টি এস্কেভেটর ও ২ টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব
প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়।
সূত্র জানায়,
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার দুপুর ১২ ঘটিকা থেকে বিকেল ৩ ঘটিকা পর্যন্ত
অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন (পশ্চিম) ইউনিয়নের
মজলিশপুর এলাকায় আবাদযোগ্য কৃষিজমির মাটিকাটার ঘটনায় অভিযুক্ত মজলিশপুর
গ্রামের মেহের আলীর পুত্র মোহাম্মদ রফিক (৭৫) কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও
মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ১ টি এস্কেভেটর ও ২ টি ট্রাক্টর জব্দ করেন উপজেলা
নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজীব তালুকদার, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা
পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জব্দকৃত এস্কেভেটর ও
ট্রাক্টরগুলো বর্তমানে উপজেলা পরিষদ মাঠে রয়েছে এবং এবিষয়ে মামলার
প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের
চার থেকে ছয় ইঞ্চি গভীরের মাটিতেই মূলত পুষ্টিগুণ থাকে। মাটির এইস্তর কেটে
নেয়ার ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করেও জমিতে
কাক্সিক্ষত ফলন পাচ্ছেনা কৃষকেরা। তাছাড়া এসব জমিতে ফসল ফলাতে সারের পেছনে
কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে।
জনস্বার্থে কৃষিজমির মাটিকাটা প্রতিরোধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
