কুমিল্লা
লালমাইয়ে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা, ভাংচুর,
হুমকি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আবদুল ওয়াদুদ
তালুকদারের পরিবার। রবিবার (১৮ মে) সকালে কুমিল্লা লালমাই উপজেলার বাগমারা
দক্ষিণ ইউনিয়নের কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা সড়ক সংলগ্ন খিলপাড়ায় বাঁধা ও ভাংচুরের
ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলেই সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার
বিস্তারিত তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।
এ-সময় আবদুল ওয়াদুদ তালুকদার বলেন,
আমার ছেলেরা গত ১১ মাস পূর্বে বাগমারা খিলপাড়া মৌজায় স্থানীয় নুরুন্নবী
থেকে ৮ শতক ৩৩ সেন্ট জমি ক্রয় করে এবং দখল বুঝে নেয়। গত মঙ্গলবার সকালে সেই
জমিতে সীমানা প্রাচীর দিতে গেলেই বাঁধা দেয় স্থানীয় ননু মিয়ার দুই ছেলে
মোহাম্মদ উল্লাহ ও আহম্মদ উল্লাহ সহ কয়েকজন। পরবর্তীতে আমরা সীমানা প্রাচীর
দিয়ে চলে গেলে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে দাবি করে বেলা ১২টার দিকে তারা টিন
এবং পিলারগুলো ভেঙে তুলে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় আমরা লালমাই থানায় লিখিত অভিযোগ
দিয়েছি।
পূর্বে এখানে মানুষের চলাচলের রাস্তা ছিল কিনা এমন প্রশ্নের
জবাবে ওয়াদুদ তালুকদার বলেন, এখানে পূর্বে কোনো রাস্তা ছিল না। যাদের থেকে
আমরা জমিটা ক্রয় করেছি এখানে তাদের বসতবাড়ি ছিল। আজকে প্রতিপক্ষের লোকজন
যেটাকে রাস্তা দাবি করছে পূর্বে সেখানে বসতভিটা এবং গোয়ালঘর ছিল। জমি
ক্রয়ের পর আমরা বসতভিটা উন্মুক্ত করে রাখলে তারা সেই স্থানকে নিজেদের মতো
রাস্তা বানিয়ে হাঁটাচলা শুরু করে দেয়। যদিও তাদের চলাচলের মূল রাস্তা বাড়ির
দক্ষিণ দিক দিয়ে। আর আমরা কোনো পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করিনি। মূলত
তারা আমাকে এবং আমার পরিবারকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে
আমাদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও রাস্তা বন্ধের মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন
করেছে। আমরা এটার বিচার চাই এবং এই ঘটনার জন্য তারা অনুতপ্ত না হলে আমি
আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।
জমির ক্রেতা সাইফুর রহমান তালুকদার বলেন,
আমরা যখন জমিটা খরিদ করি তখন সেখানে একটা বসতভিটা ছিলো। প্রতিপক্ষের লোকজন
যেখানে রাস্তা দাবি করছে সেখানে কোনো রাস্তা ছিল না। দাবিটা সম্পূর্ণ
অযৌক্তিক৷ তাদের যে অভিযোগ ছিল আমরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি এটা সম্পূর্ণ
মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমাদের মানসম্মান নষ্ট করার জন্যই তারা এমন করেছে। এখন
আমরা টিন দিয়ে সীমানা প্রাচীর দিতে আসছি তারা অহেতুক আমাদের উপর আক্রমণ
চালাচ্ছে এবং জোরপূর্বক বাঁধা দিচ্ছে। আমরা এটার প্রতিকার চাই।