মোঃ হাবিবুর রহমান ।।
চা-নাস্তার টেবিলে বা স্টেশনের মোড়ে তুচ্ছ কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া দ্ব›দ্ব অনেক সময় যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী হলো কুমিল্লার নবগঠিত বাঙ্গরা উপজেলার কোরবানপুর গ্রাম। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। সংঘর্ষে ইউপি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার প‚র্বধইর প‚র্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় স‚ত্র ও পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের ৩ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। ম‚লত শুক্রবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান এবং যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিমের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোকজনের বিরুদ্ধে। আর এই ক্ষোভের আগুনে শনিবার সকালে ঘি ঢেলে দেয় দুই পক্ষের সশস্ত্র মহড়া।
শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমির হোসেন নামের এক ব্যক্তির মুখে দায়ের কোপে গুরুতর জখম হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর আলী (৭০) ও আল আমিন (৪৮) গণপিটুনির শিকার হন। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় রুবেল (২৮) নামের এক যুবকও আহত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোকজন একত্রিত হয়ে পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনির দাবি করেন, অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় মাদকবিরোধী সংগঠনের সদস্যরা তাকে ও রেজাউল করিমকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ওই সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই যুবক সেখানে উপস্থিত থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সকালে এই হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিয়াউর রহমানের দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্প‚র্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শুক্রবার বিকেলে থানায় যাওয়ার পথে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু লোক উসকানিম‚লক কথা বলে। পরে রাতে থানা থেকে ফেরার পথে প‚র্বপরিকল্পিত ভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় রাতেই বাঙ্গরা বাজার থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প‚র্বধইর প‚র্ব ইউপি চেয়ারম্যান শুকলাল দেবনাথ জানান, দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মেটানোর জন্য আগামী মঙ্গলবার একটি শালিস বৈঠকের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বৈঠকের আগেই সংঘর্ষের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেল।
খবর পেয়ে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.কে.এম কামরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের সম্প‚র্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
