সৌরভ মাহমুদ হারুন।।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গভীর রাতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটি পরিবারের বসতঘর। মুহ‚র্তের মধ্যে আগুনের ভয়াবহতা পুরো ঘরকে গ্রাস করায় আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ রক্ষা করা যায়নি কোনো কিছুই। আকস্মিক এ অগ্নিকাÐে পরিবারটির প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আরাগ আনন্দপুর মধ্যপাড়া এলাকায় জামাল মেম্বারের বাড়িতে এ অগ্নিকাÐ ঘটে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরটি ওই এলাকার বাসিন্দা এরশাদের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন হঠাৎ ঘর থেকে আগুনের স‚ত্রপাত হয়। চোখের পলকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের বিভিন্ন অংশে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা বালতি ও বিভিন্ন উপায়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান।
দীর্ঘ চেষ্টার পর স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। আগুনে বসতঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় মালামালসহ ঘরের অধিকাংশ সামগ্রী পুড়ে অঙ্গারে পরিণত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
অগ্নিকাÐের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে নেমে আসে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সম্পদ এক রাতেই আগুনের গ্রাসে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েন এরশাদ। চোখের সামনে নিজের ঘর পুড়ে ছাই হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত এরশাদ বলেন, “হঠাৎ বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন ধরে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো ঘর আগুনে পুড়ে যায়। ঘরের কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। এক মুহ‚র্তেই আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি একেবারেই নিঃস্ব।”
ঘটনার পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে অগ্নিকাÐস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাছের মুন্সী বলেন, পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এরশাদের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ আগুনের স‚ত্রপাত হয়। এতে পুরো বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খবর পাওয়ার পর দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।”
এদিকে আকস্মিক এ অগ্নিকাÐে বসতঘর ও কষ্টার্জিত সম্পদ হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
