কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের মিথলমা উত্তর ও পশ্চিমপাড়ায় অবস্থিত অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড টেকনোলজি-২-এর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয়েছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মিলনমেলায়। মেধা, মনন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিভার স্বীকৃতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সাফল্যকে জানানো হয় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাড়াইল হাজী ছেরাগ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম।
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট দলিল লেখক মাঈন উদ্দিন পাটোয়ারী এবং দৈনিক রূপসী বাংলার উত্তর প্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ সাইফুল উদ্দিন মিয়াজি।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুর রব, মোকাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ ফরিদ উদ্দিন, সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল হালিম, মোঃ জসিম উদ্দিন মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব শেষে বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। একই সঙ্গে মেধাবৃত্তি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট।
পুরস্কার হাতে পাওয়ার মুহূর্তে কৃতী শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও গর্বের ঝিলিক। তাদের এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের জন্যও এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আয়োজকরা বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়—শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সৌরভ মাহমুদ হারুন
