রণবীর ঘোষ কিংকর।
কুমিল্লার
চান্দিনা উপজেলা সদরের বাজারটির দীর্ঘদিনের যানজটে নাকাল জনজীবন। সড়কের
উপর সারি সারি দোকান, রিকশা ও অটোরিক্সার স্টেশন ও যত্রতত্র পার্কিং-এ
যানজট যেন তীব্র হয়ে উঠে। সড়কটির চান্দিনা পূর্ব বাজার থেকে পশ্চিম বাজার
পর্যন্ত প্রায় একশ মিটার এবং চান্দিনা বাস স্টেশন থেকে ডাব বাজার ও রামমোহন
রোড থেকে সাব রেজিষ্ট্রি অফিস পর্যন্ত ১শ মিটার সড়কের যানজট স্থানীয়দের
নিত্য সঙ্গী।
চান্দিনা বাজারের সড়ক থেকে ফুটপাত, অবৈধ অটোরিক্সা
স্ট্যান্ড অপসারণে প্রায়ই অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। প্রথম দুই তিন দিন
কিছুটা স্বাভাবিক থাকার পর আবার ফিরে আসে পুরাতন চেহারায়। যানজটে অতিষ্ঠ
জনগণকে স্বস্তি দিতে দীর্ঘ বছরের পর বছর রীতিমতো ব্যর্থ প্রশাসন ও রাজনৈতিক
মহল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে থানা পুলিশ, বাজারের ইজারাদার,
রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও পৌরসভার কর্মচারীদের সাথে নিয়ে সড়ক ও ফুটপাত
দখলমুক্ত করতে মাঠে নামে উপজেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমান আদালতে নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম
ইন্জারুল হক। তিনি কয়েক ঘন্টা বাজারে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখল মুক্ত করেন।
সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করেন ব্যবসায়ীদের। সরিয়ে দেন অটোরিক্সা স্টেশন।
অভিযান
শেষে ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলায় প্রবেশের আগেই আবার স্বঅবস্থানে ভ্রাম্যমান
দোকানীরা। সড়কের পাশে আবারও অটোরিক্সার অবৈধ স্টেশন! প্রশাসনের অভিযানের
পরপর আবারও সড়ক ও ফুটপাত দখল করায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজারে
আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী
জানান- আমরা এগ্রিম ২০-৫০ লাখ টাকা ও মাসিক ৩০-৮০ হাজার টাকা ভাড়ায় দোকান
নিয়ে ব্যবসা করছি। ফুটপাতের দোকানদাররা আমাদের দোকানের সামনে বসে
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তারা প্রথমে ২টি ক্যারেট নিয়ে বসে। কয়েক দিনের
মধ্যে সেই ক্যারেটের সংখ্যা হয় অন্তত ৮-১০টি। আমাদের দোকানের সামনে পলিথিন
দিয়ে ছাউনি দিচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করতে আসে। তাদের ভয়ে
প্রকৃত ব্যবসায়ীরা জিম্মি।
তারা আরও জানান- আজ (মঙ্গলবার) প্রশাসন
অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর আবারও তারা সড়কের উপর মালামালের পশরা
সাজিয়ে বসেছে। মনে হয় প্রশাসনও তাদের কাছে জিম্মি!
মিজানুর রহমান নামে
এক ক্রেতা জানান- আমরা চান্দিনা বাজার থেকে পাইকারি মাল কিনে গ্রামে বিক্রি
করি। ফুটপাতের দোকানদারদের কারণে বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট।
এ ব্যাপারে
চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম ইন্জারুল হক জানান- অভিযানের
পর আবারও তারা সড়কের উপর বসেছে বিষয়ে আমার নজরে এসেছে। খুব শীঘ্রই আবারও
অভিযান চালিয়ে স্থায়ী ভাবে উচ্ছেদ কল্পে কাজ করবো।
