
স্বল্প সুদে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ দিতে ‘উদ্যোগ’ নামে ১
হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার ব্যাংক
নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে
গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বৈঠকে সেই ঋণ তহবিলের কাঠামো, নীতি, সুবিধাভোগী,
উপজেলাভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ এবং সম্ভাব্য ঋণ বিতরণ পদ্ধতি নিয়ে
আলোচনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ওই বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, “উদ্যোগ
প্যাকেজ নিয়ে আমার বলা ঠিক হচ্ছে কিনা, সত্যি জানি না। যাদের বয়স ২৫, ২৬,
২৭ এর মধ্যে, তাদেরকে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন নিয়ে
খুব কম রেটে, ৪, ৫, ৬ শতাংশ সুদে আমরা লোন দেব।
“লাখ দশেক টাকার মতন করে দেওয়া হবে, তারা যেন ব্যবসা করতে পারে। সারাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের তহবিল আসছে।”
তিনি
বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করাটাই যৌক্তিক কাজ হবে।
৫০০ উদ্যোক্তা তৈরি হলেও অনেক। নতুন ব্যবসায়ী হতে হবে, নাকি চলমান ব্যবসা
এক বছর হতে হবে, এ জিনিসগুলো এখন ঠিক হবে।”
উপজেলা ধরে এগোনোর কথা তুলে
ধরে মাসরুর আরেফিন বলেন, “ওই লোনের পারফরমেন্স ভালো হলে, রিপেমেন্ট ভালো
হলে তাদের জন্য আবার আমাদের অনুদানও থাকবে।”
ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকের সিএসআর (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) তহবিল থেকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, বলেন তিনি।
“১০ লাখ টাকা ঋণ আর ১০ লাখ টাকা অনুদান দিলে তিনি তো ২০ লাখ টাকা পাবেন। সিএসআর থেকে অনুদানের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
ঋণ
প্যাকেজের পুরো প্রস্তুতির পর সুদহার সম্পর্কে জানা যাবে তুলে ধরে এবিবি
চেয়ারম্যান বলেন, “যদি ৫ হাজার তরুণ যুবককে অর্থায়ন করি, তাতে যদি আমার
হিসাবে ১০০ জন ঠিক মত ব্যবসায়ী হিসেবে দাঁড়িয়ে যায় তো, সারা দেশে একটা নতুন
একটা জোয়ার আনবে।”
প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে তহবিলটি গঠন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করা।
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন এ
পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংকারদের সঙ্গে
মতবিনিময় করার কথা বলেন তিনি।
আরিফ হোসেন বলেন, “‘উদ্যোগ’ নামটি এখনো
প্রাথমিক পর্যায়ে। চূড়ান্ত হলে ভিন্ন কিছুও হতে পারে। ঋণের পরিমাণ কত হবে,
তহবিলের আকার কী হবে, কারা পাবে, এখনো কোনো বিষয়ই চূড়ান্ত করা হয়নি।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আসছে এই ঋণ প্যাকেজ।”
