চৌদ্দগ্রাম
প্রতিনিধি: বুধবার দুপুরে গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস্ পণ্যবোঝাই করে
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীন।
পথিমধ্যে কুমিল্লার অংশে প্রবেশ করলে গ্যাস শেষ হয়ে যায়। গ্যাস নেওয়ার জন্য
তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার এডভান্স সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনে প্রবেশ
করেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও গ্যাস পাওয়া যায়নি। সময়মতো বন্দরে
পণ্য না পৌছাতে পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যাবে। এমন আশঙ্কার কথাই জানালেন এ
চালক। কখন গ্যাস পাবেন, তাও তিনি জানেন না।
জয়নাল আবেদীনের মতো এরকম
কয়েকশত পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান কুমিল্লার অংশে গ্যাস ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে
গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল
থেকে দুপুর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার পর্যন্ত ঘুরে
দেখা যায়, মহাসড়কের দুই লেনের পাশে অবস্থিত সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে শত
শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন গ্যাসের জন্য
দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কোন ষ্টেশনেই গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।
আবার গ্যাস সংকটের কারণে ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের গণপরিবহনগুলো
প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে জনভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। মহাসড়কে গাড়ির
জন্য অপেক্ষা করছে যাত্রীরা। আবার অনেকস্থানে গ্যাস সংকটের কারণে সড়কে
দাঁড়িয়ে গেছে গণপরিবহনসহ অন্যান্য পরিবহন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত
শুক্রবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোন
প্রকার আগাম ঘোষণা ছাড়াই বুধবার দুপুর থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
রয়েছে। এতে করে হঠাৎ করে গ্যাস চালিত পরিবহনগুলো সংকটে পড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার
দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায়,
পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। তারা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে। সেখানে কথা
হয় আবদুল খালেক নামে এক লরী চালকের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, রাতে
চট্টগ্রামের ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তার
গাড়িটি গ্যাস চালিত। হঠাৎ করে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এ ফিলিং ষ্টেশনে প্রবেশ
করেন, গ্যাসের জন্য। কিন্তু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে
বলেন, কখন গ্যাস পাবো তাও জানি না। সঠিক সময়ে মালামাল নিয়ে গন্তব্যে
পৌঁছাতে পারবো কিনা তাও জানি না। মহাসড়কটির দুই পাশের গ্যাস ফিলিং
ষ্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবোঝাই গাড়ি গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে
অপেক্ষা করছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে ফেনী ও কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের
গণপরিবহনগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে দুই জেলার যাতায়াতকারী
যাত্রীরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে দুই জেলায় যাতায়াতকারী অফিসগামী
কর্মকর্তা, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের চরম
ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ইকবাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি চৌদ্দগ্রাম বাজারে
দাঁড়িয়ে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, আমার নিকট আত্মীয়
কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাকে দেখতে যাওয়া জরুরী। তার অবস্থা
আশঙ্কাজনক। কিন্তু যাওয়ার মতো কোন গণপরিবহন পাচ্ছি না। গ্যাস সংকটের কারণে
অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে
কাভার্ডভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের
গাড়ির খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে
পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিনদিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে করে
পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চরম বেকায়দায় আছে। তিনি বলেন, আমার বেশ
কয়েকটি গাড়ি রয়েছে। যার অধিকাংশই গ্যাসের জন্য বিভিন্ন ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে
আছে।
ফেনী-কুমিল্লা সড়কে যাতায়াতকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির
সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ার কারণে
ট্রান্সপোর্টের অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে গাড়ির সংকট দেখা
দিয়েছে। তিনি বলেন, গণপরিবহন সংকটের কারণে দুই জেলার যাতায়াতকারী মানুষগুলো
চরম ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগী এবং
কলেজ শিক্ষার্থীদের এ ভোগান্তি বেশী হচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে
বলেন, অন্তত গণপরিবহনগুলো সচ্চল রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন অব্যাহত
রাখে।
এ বিষয়ে কথা বলতে বাখরাবাদ গ্যাস বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক
প্রকৌশলী মুর্তজা রহমান খানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল
রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
