প্রদীপ মজুমদার :
কুমিল্লার
লালমাইয়ে এনায়েত হোসেন বাহার কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার সঠিক তদন্ত, দ্রুত
বিচার ও অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৩০
জুন) রাতে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়ায় এই মানববন্ধন
করেন নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী।
মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে
নিহতের পিতা আবদুর রশিদ বলেন, "আমার প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে পরিকল্পিতভাবে
হত্যা করা হয়েছে। পূর্বেও হত্যাকারী ঝুমার স্বামী রাসেল আমার ছেলেকে মেরে
ফেলার হুমকি দিয়েছিল। বাহার যদি কোনো অপরাধ করত তাহলে গ্রামবাসী, আইন-আদালত
তার বিচার করত। কিন্তু এভাবে দিনের আলোতে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার
কারণ কি আমি দেশবাসীর কাছে জানতে চাই। আমি এই হত্যাকারী ঝুমার ফাঁসি চাই।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট এই হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ
সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ঝুমার পরিবারের সাথে আমাদের তেমন শত্রুতা ছিল না।
কিন্তু হত্যাকারীর স্বামী রাসেল পূর্ব থেকেই আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি
দিয়ে আসছে। আমার মনে হয় তারা পরিকল্পিতভাবেই আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আর
ঘটনার দিন পুলিশ নিজেদের ইচ্ছে মতোই কেস (মামলা) লিখেছে। যদিও আমরা আরো
আসামি দিতে চেয়েছিলাম।"
সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ আলম
বলেন, "হত্যাকান্ডের ঘটনাটি যেহেতু দিনের আলোতে হয়েছে সুতরাং এটি পরিকল্পিত
হত্যাকান্ড বলে আমরা মনে করি। বাহারকে মোবাইলের মাধ্যমে ফোন করে নিয়ে
গেছে। হত্যা করে হত্যাকারী নিজেই ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ এনেছে। যদিও ওই
হত্যাকারী মহিলা বলছে সে একা হত্যা করেছে কিন্তু সে একা হত্যা করেনি। এখানে
আরো রহস্য আছে। আশা করি পুলিশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা বাহির করবে
এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা এই হত্যাকান্ডের উপর্যুক্ত বিচার চাই।"
এসময়
কান্না বিজড়িত কন্ঠে নিহতের মা সাংবাদিকদের জানান, আমি আমার প্রতিবন্ধী
ছেলে হত্যার বিচার চাই। একজন মা হিসেবে ছেলের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি
ফাঁসি চাই।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে পাশের বাড়ির প্রবাসী রাসেলের ঘর
থেকে এনায়েত হোসেন বাহারের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন ভোরে
আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ এনে নিজ ঘরে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দা দিয়ে
নৃশংসভাবে কুপিয়ে বাহার কে হত্যা করে রাসেলের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী
ঝুমা আক্তার। পরে হত্যাকারী নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করে পুলিশে
খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং ময়নাতদন্ত শেষে নিজ গ্রাম
দত্তপুরে নিহতের দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ
বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
