
কুমিল্লার
নাঙ্গলকোটের আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের তুগুরিয়া নোয়াপাড়া এলাকায় স্থানীয় এক
যুবদল নেতার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার পর শনিবার ভোরে কোহিনূর বেগম
নামে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি অপমান সইতে না পেরে
কোহিনূর আত্মহত্যা করেছে। কোহিনূর বেগম তুগুরিয়া নোয়াপাড়া গ্রামের সৌদিআরব
প্রবাসী ইয়াকুব আলীর স্ত্রী। ঘটনায় অভিযুক্ত একই গ্রামের তোফায়েল আহমেদ
আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে
তিনি সম্ভাব্য মেম্বার পদপ্রার্থী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলে আসছেন।
কোহিনূরের ৬ ও ৭ বছর বয়সী পুত্র ও কন্যা সন্তান রয়েছে। খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট
থানা পুলিশ কোহিনূরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে স্থানীয় যুবদল
নেতা তোফায়েল আহমেদ প্রবাসী ইয়াকুব আলীর স্ত্রী কোহিনূর আক্তারের ঘরে
প্রবেশ করে। এসময় তাদের উভয়কে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে কোহিনূরের ভাসুর
আয়ূব আলী। পরে তাদের শোরগোল শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তোফায়েল জুতা ও
লুঙ্গি পেলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এনিয়ে তুগুরিয়া-নোয়াপাড়া আলোকিত সমাজ নামের একটি সামাজিক সংগঠনসহ স্থানীয়
বাসিন্দারা তোফায়েলের শাস্তি দাবি করে প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
করেন।
এ ঘটনায় কোহিনূরের স্বামী সৌদি প্রবাসী ইয়াকুব আলী সুষ্ঠু তদন্ত
ও বিচার দাবি করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে
একাধিক সালিশ-বৈঠক হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে কোহিনূর আক্তার
মানসিক চাপে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়া এবং বিভিন্ন
মহলের সমালোচনার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।
কোহিনূরের ভাসুর
আয়ূব আলী বলেন, শনিবার ভোরে আমরা কোহিনূরকে তার রুমে মৃত অবস্থায় দেখতে
পাই। আমার ধারণা সে অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে অথবা স্ট্রোক করে
মারা গেছে।
নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান বলেন, লাশ
উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা
হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। যুবদল নেতার
সাথে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের ঘটনায় কোন অভিযোগ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কোন
অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানান।
