কুমিল্লা-৯
(লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয়
নির্বাহী কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম বলেছেন, নারী শিক্ষা ও
নারী জাগরণের অগ্রদূত উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা ও মুসলিম নবাব মহিয়সী নারী
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর ইতিহাস প্রায় পৌনে দুই'শ বছরের। নবাব ফয়জুন্নেছা
এবং এই জমিদার বাড়িটি আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি
বর্তমানে “নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদারবাড়ি জাদুঘর” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এটির
সংররক্ষণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি,
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী
জনকল্যামূলক কাজের জন্য (রাহেলিল্লাহ
দানপত্র) রেখে যাওয়া ২৯৭ একর সম্পত্তি সিংহভাগ বেহাত হয়ে গেছে। কতিপয়
ভূমিদস্যূ ওইসব সম্পত্তি গ্রাস করে নিয়েছে। অবশিষ্ট অংশটুকুও গ্রাস করার
জন্য নানাহভাবে পাঁচতারা করছে এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যে কোনো মূল্যে
এসব ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। নবাব ফয়জুন্নেছার চৌধুরাণী বেহাত
হওয়া সমস্ত সম্পত্তি উদ্ধারে আমরা বদ্ধপরিকর। অবৈধভাবে দখলদারিত্ত্বের
বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যতবড় ভূমিদস্যূই হোক,
এক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।
গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) নবাব ফয়েজুন্নেছা
চৌধুরানী : বহুমাত্রিক মানবিক ঐশ্বর্য সেমিনার ও ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ
প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা-৯
(লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয়
নির্বাহী কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম এসব কথা বলেন।
ওইদিন
বিকেলে নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয়
জাদুঘর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, লাকসাম উপজেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজন ও
লাকসাম পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার
(ইউএনও) নার্গিস সুলতানার সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক
মো. মনিরুল হকের সঞ্চালণায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ
জাতীয় জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম, বাংলাদেশ
জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক আসমা ফেরদাউস, সাংবাদিক এম এস দোহা।
অনুষ্ঠানে
মহিয়সী নারী নবাব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর জনকল্যামূলক ও কর্মময় জীবনের ওপর
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার।
প্রধান অতিথি বলেন,
প্রজাহিতৈষী জমিদার মহিয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী আমাদের সম্পদ।
তাঁর পূণ্যভূমিতে জন্ম গ্রহণ করে আমরা আজ গর্বিত। নবাব ফয়জুন্নেছারা বার
বার জন্মায় না। কিন্তু তাঁরা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন যুগ-যুগান্তর।
তাঁদের সৃজনশীলতা, জনকল্যামূলক সামাজিক কার্যক্রম ও সাহিত্যকর্মে। পৃথিবী
যতদিন থাকবে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী ততদিন বেঁচে থাকবেন, আমাদের হৃদয়ে,
আমাদের চিন্তায়, মননে, মেধায়।
তিনি বলেন, এই মহিয়সী নারীর সৃজনশীল
কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা আগামীরদিনে পথ চলবো। আমাদের প্রজন্মকে আলোর
মশাল জ্বালিয়ে সমাজের সকল অসঙ্গতি ও অন্ধকার দূরিভূত করে আলো ছড়িয়ে দিতে
হবে। কায়েম করতে হবে ক্ষুদা, দারিদ্রমুক্ত, বৈষম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত,
শোষনহীন সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা।
এমপি আবুল কালাম বলেন, বর্তমান
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান একজন জনবান্ধব সরকার প্রধান। নবাব
ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘরের সংস্কার ও উন্নয়নে প্রায় ১৯ কোটি টাকার
বরাদ্দ দিয়েছেন বর্তমান সরকার। সেজন্য এই বরাদ্দের যথাযথ স্বচ্ছতা ও
জবাবদিহিতার মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ আমাদের ব্যয় করতে হবে।
তিনি বলেন,
আমাদের আগামী প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে কর্মমূখী শিক্ষা ববস্থার বিকল্প
নেই। তাই নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর নামে লাকসামে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা আমার স্বপ্ন। এক্ষেত্রে বর্তমান
সরকারকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
সভাপতির
বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, বর্তমান
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং দেশ-বিদেশের নানাহ তথ্যভান্ডারের
সঙ্গে আমাদের এই প্রজন্ম ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাঁদের সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা,
মননশীল মেধা অনেক সমৃদ্ধ। এ ধরণের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দক্ষতা অর্জন ও তাদের সুপ্ত মেধাকে বিকশিত করার একটি
সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে মহিয়সী
নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে এবং জমিদার বাড়ি জাদুঘর সম্পর্কে
ইন্টারনেট'র যুগে দেশ এবং বিশ্ববাসীর কাছে চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আমরা এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। সেজন্য সকলকে আন্তরিকভাবে
সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।
এ সময় অন্যান্যদর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা, লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী, লাকসাম পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা
বিএনপির সভাপতি আলহাজ মজির আহমেদ, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর প্রৌপুত্র
সৈয়দ মাসুদুল হক, সৈয়দ কামরুল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর
রহমান বাদল, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আবুল হাসেম মানু, উপজেলা
বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন
মুশু, পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনির আহমেদ, সাবেক সাংগঠনিক
সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক প্রমূখ।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষা,
সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ 'আলোর দিশারী নবাব
ফয়েজুন্নেছা’ নামক একটি নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। পরে নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার
বাড়ি জাদুঘর নিয়ে ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে
পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদ সদস্য মো.আবুল কালাম।
