লাকসাম
উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের মো. জামাল হোসেন (৫২) নামে
জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ
পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেন ওই গ্রামের মধ্যম পাড়ার মৃত নুরু
মিয়ার ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে শিশুটির মা বাদি হয়ে এই ঘটনায়
লাকসাম থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেন।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ
ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, আগেরদিন বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী
শিশুটি স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি
শুরু হলে শিশুটির এক ফুফু তাকে নিজের ঘরে নিয়ে বসান। এই সময় মো. জামাল
হোসেন নামের ওই ব্যক্তি সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগী শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে
হাত দেয় এবং পায়জামা খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন শিশুটি ভয়ে চিৎকার করে
ওঠে
এবং ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। ওই সুযোগে মো. জামাল হোসেন দৌড়ে পালিয়ে
যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেন এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা
দেন।
এলাকার একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা ও স্থানীয়ভাবে
রফাদফার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি
হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, মো. জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আগেও এক বিবাহিত
নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে
সামাজিকভাবে রফাদফা করা হয়েছিল। এমন জঘন্য ঘটনার বারবার সামাজিক রফাদফার
চেষ্টায় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী
ওই শিশুর সম্পর্কিত নানা একই গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি
মো. আজহারুল হক খোকা গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,
বিষয়টি গ্রামের কিছু লোক সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে তিনি
এই ঘটনায় অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এই
ব্যাপারে লাকসাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ জোবায়ের ফয়সাল
বলেন, মো. জামাল হোসেনকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনেন না। তবে ওই এলাকার
জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, ওই ব্যক্তি
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে বিভিন্ন
সভা-সমাবেশ ও মিছিলে অংশগ্রহণ করেন ।
তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি যে দলেরই
হোক-যদি অপরাধী হয়, তাঁর শাস্তি হওয়া আবশ্যক। আর নিরপরাধ হলে যেনো তাঁর ওপর
কোনোভাবেই জুলুম করা না হয়।
লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেছার
আহাম্মদ জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা
পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেন এলাকা থেকে গা ঢাকা
দিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেন আত্মগোপনে থাকায় এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এই
ব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায়
শিশুটির মা তাসলিমা বাদি হয়ে অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেেেন বিরুদ্ধে থানায়
একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে পুলিশ।
