শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এক আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১:৫৪ এএম |


সুরা বাকারার ২১-২২ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,  ‘হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদেরকে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে করেছেন বিছানা, আসমানকে ছাদ এবং আসমান থেকে নাজিল করেছেন বৃষ্টি। তারপর তার মাধ্যমে উৎপন্ন করেছেন ফল-ফলাদি, তোমাদের জন্য রিজিক হিসেবে। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করো না।’
এ দুটি আয়াতের মর্ম ও বিধান
ইসলামে ইবাদত জায়েজ শুধু এক আল্লাহর যিনি মানুষ ও বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও রিজিকদাতা। ইবাদতের অন্যতম অনুসঙ্গ তাকওয়া বা খোদাভীরুতা। আল্লাহর শরিয়তের বাইরে যাওয়া, তার নির্দেশ পালন না করা বা নিষেধ লঙ্ঘন করার সাহস একজন মুমিনের হওয়ার কথা নয় যে যথাযথভাবে আল্লাহর ওপর ইমান এনেছে।
আল্লাহ জমিনকে বিছানা বানিয়েছেন মানে জমিনকে মানুষের বসবাসের উপযোগী সমতল ও স্থীর বানিয়েছেন। কেউ যদি আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে সে বিছানায় ঘুমাবে না, তাহলে এ আয়াতের কারণে জমিনে ঘুমালে তার শপথ ভাঙবে না। এটা ইমাম আবু হানাফি ও শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী আলেমদের মত। কারণ বিছানা বলে মানুষ জমিন বোঝায় না। মানুষের সাধারণ ব্যবহার অনুযায়ী শপথের অর্থ ধর্তব্য হয়। মালেকি মাজহাবের অনুসারী আলেমদের মতে শপথের অর্থ ধর্তব্য হয় নিয়ত অনুযায়ী অথবা প্রসঙ্গ বা কারণ অনুযায়ী, এগুলো না পাওয়া গেলে মানুষের ব্যবহার অনুযায়ী, তাও না পাওয়া গেলে আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী।
এ আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় আল্লাহ এক ও একক। তিনি অতুলনীয় স্রষ্টা, অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের চারপাশের জগত, খুটিহীন আকাশ, পৃথিবী তার অসীম ক্ষমতার প্রমাণ বহন করছে। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, আর আমি আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ; কিন্তু তারা তার নিদর্শনাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সুরা আম্বিয়া: ৩২)
মানুষকে একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর তার নেয়ামতের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ করেছেন জমিনে মানুষ ও পশুর খাবার হিসেবে তিনি বিভিন্ন রকম ফল ফসল সৃষ্টি করেন। কোরআনের আরেক জায়গায় আল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্ট রূপে বিদীর্ণ করি; এবং ওতে আমি উৎপন্ন করি শস্য; আঙ্গুর ও শাক-সবজি, জয়তুন, খেজুর, ঘন বৃক্ষ পরিপূর্ণ বাগবাগিচা, নানান জাতের ফল আর ঘাস-লতাপাতা। এগুলো তোমাদের ও তোমাদের পশুগুলোর ভোগের জন্য।  (সুরা আবাস: ২৫-৩২)
আল্লাহ নিজেকে মানুষের রিজিকদাতা উল্লেখ করে অন্য কাউকে তার সমকক্ষ নির্ধারণ করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ মানুষকে আল্লাহ অমুখাপেক্ষী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ নিজের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা নিজে করতে সক্ষম। তাই লোভে পড়ে মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া সমীচীন নয়। যে একেবারে অপরাগতা ছাড়া শুধু লোভে পড়ে অন্যের দয়া ভিক্ষা করে, অন্যের মুখাপেক্ষী হয়, সে আল্লাহর নেয়ামতের অবমূল্যায়ন করলো। আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপন করার মতো একটা কাজ করলো।
আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করো না।’ এখানে মানুষকে তার জ্ঞান ও বুদ্ধি কাজে লাগাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্ধ অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। মুশরিকরা জানতো আল্লাহই তাদের স্রষ্টা ও রিজিকদাতা, তাদের বানানো শরিকরা না। যে কেউ নিজের জ্ঞান ও আকল কাজে লাগালে এটা বুঝতে পারবে।
আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে কোনো মাধ্যমেরও প্রয়োজন নেই। আল্লাহ বলেন, জেনে রেখ, শুধু আল্লাহর জন্যই বিশুদ্ধ ইবাদত-আনুগত্য। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে, ‘আমরা কেবল এজন্যই তাদের ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।’ যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে আল্লাহ নিশ্চয় সে ব্যাপারে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। যে মিথ্যাবাদী কাফির, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না। (সুরা জুমার: ৩)


মহানবীর (সা.) জীবন থেকে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ৩ কৌশল

মানবজাতির কল্যাণে প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, একটি আদর্শ দাম্পত্য জীবন তখনই সফল হয়, যখন তাতে ভালোবাসা, দয়া এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকে। তার দুই প্রিয় স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ও হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে কাটানো জীবনের সুন্দর গল্পগুলো থেকে আমরা এমন অনেক শিক্ষা পাই, যা বর্তমান যুগের দম্পতিদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মহানবী (সা.)-এর বৈবাহিক জীবন থেকে পাওয়া তিনটি প্রধান শিক্ষা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. স্ত্রীর পরামর্শ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া
তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীর প্রতি বৈষম্য বিদ্যমান থাকলেও প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন যে, দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা। বিয়ে মানেই শুধু পুরুষ সব সিদ্ধান্ত নেবে আর নারী সবসময় তার অনুগত থাকবে—ইসলাম এমন শিক্ষা দেয় না।
বরং আমরা দেখতে পাই, মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী হিসেবে হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন স্বাধীন ও সফল নারী। বিয়ের পরও তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি। সংসারে তিনি শুধু সাজিয়ে রাখার মতো কোনো অলঙ্কার ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন স্বামীর সমান অংশীদার, যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
হেরা গুহায় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রথম ওহী লাভের পর মহানবী (সা.) যখন কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরলেন, তখন তিনি নিজেকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। হজরত খাদিজা (রা.) তাৎক্ষণিকভাবে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় স্বামীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি স্বামীর গুণাবলীর কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনি তো এমন একজন মানুষ যিনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ান এবং মেহমানদের আপ্যায়ন করেন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কখনোই অপমানিত করবেন না।
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, খাদিজা (রা.) কীভাবে তার স্বামীকে মানসিক প্রশান্তি দিয়েছিলেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সাহস জুগিয়েছিলেন। মহানবী (সা.)-ও তার স্ত্রীর পরামর্শ শুনতেন এবং মূল্যায়ন করতেন। তারা দুজনে মিলে জীবনের প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।
পবিত্র কোরআনের সূরা আর-রূমের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
২.স্ত্রীর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা
একটি সুখী পরিবার গঠনে পারস্পরিক যোগাযোগ বা কথোপকথন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা মহানবী (সা.) তার আচরণ দিয়ে শিখিয়েছেন। যোগাযোগ কখনোই একতরফা হওয়া উচিত নয়। বিয়েতে স্বামীর কোনো একচ্ছত্র বা স্বৈরাচারী কর্তৃত্ব নেই, বরং স্ত্রীরও তার অনুভূতি ও মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর দাম্পত্য জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, আয়েশা (রা.) তার মনের ভাব প্রকাশের পর্যাপ্ত স্বাধীনতা পেতেন। মহানবী (সা.) তার স্ত্রীর অনুভূতি খুব গভীরভাবে বুঝতেন। আয়েশা (রা.) কখন রেগে আছেন আর কখন খুশি আছেন, তা তার মুখের কথা বা শারীরিক হাবভাব দেখেই মহানবী (সা.) ধরে ফেলতেন।
একটি হাদিসে আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, আমি খুব ভালো করেই জানি তুমি কখন আমার ওপর খুশি থাকো আর কখন রাগ করো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তা কীভাবে বোঝেন? তিনি বললেন, তুমি যখন খুশি থাকো, তখন বলো—হ্যাঁ, মুহাম্মদের রবের কসম! আর যখন তুমি অসন্তুষ্ট থাকো, তখন বলো—না, ইব্রাহিমের রবের কসম! আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল! রাগ করলে আমি কেবল আপনার নামটিই মুখে নেওয়া থেকে বিরত থাকি। (সহীহ বুখারী)
বর্তমান সমাজে অনেকে স্বামীর তথাকথিত শ্রেষ্ঠত্বের দোহাই দিয়ে স্ত্রীকে নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেন না। স্ত্রীর রাগ বা দ্বিমত পোষণ করাকে অবাধ্যতা বা বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য করা হয়। অথচ মহানবী (সা.)-এর দেখানো ভালোবাসার আদর্শের সঙ্গে এই মানসিকতা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
৩. স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ
দাম্পত্য জীবনে মহানবী (সা.) সবসময় তার স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেন। আয়েশা (রা.)-এর গালের রঙ কিছুটা লালচে ছিল বলে ভালোবেসে তিনি তাকে হুমায়রা বা লালচে সুন্দরী বলে ডাকতেন, যা আয়েশা (রা.) খুব পছন্দ করতেন। ভালোবাসা বা স্নেহ প্রকাশের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) কখনোই কার্পণ্য করতেন না। আয়েশা (রা.) গ্লাসের যে অংশে ঠোঁট রেখে পানি খেতেন, মহানবী (সা.) ঠিক সেই অংশে ঠোঁট লাগিয়ে পানি পান করতেন।
হাদিসের বর্ণনায় আয়েশা (রা.) বলেন, আমি ঋতুবর্তী অবস্থায় পাত্র থেকে পানি পান করতাম, তারপর সেটি নবী (সা.)-কে দিতাম। তিনি পাত্রের ঠিক সেই জায়গায় তার পবিত্র মুখ রাখতেন, যেখানে আমি মুখ রেখেছিলাম এবং তিনি সেখান থেকে পানি পান করতেন। আবার আমি হাড় থেকে মাংস চিবিয়ে খাওয়ার পর সেটি নবী (সা.)-কে দিলে তিনি হাড়ের ঠিক সেই জায়গায় মুখ রেখে চিবাতেন, যেখানে আমি মুখ রেখেছিলাম। (সুনানে আন-নাসায়ী)
মহানবী (সা.) দেখিয়েছেন যে, দাম্পত্যের সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে এবং একে মধুর করতে দুজনেরই সমান প্রচেষ্টা ও দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। তিনি ঘরের সব কাজ স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দিতেন না। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, মহানবী (সা.) নিজের ছেঁড়া জামা নিজেই সেলাই করতেন, জুতো মেরামত করতেন এবং ঘরের অন্যান্য কাজেও হাত বাড়াতেন।
আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নবী (সা.) ঘরে কী করতেন? তিনি জবাবে বলেন, তিনি ঘরের কাজে তার পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করতেন এবং যখন নামাজের সময় হতো, তখন নামাজের জন্য বের হয়ে যেতেন। (সহীহ বুখারী)
বর্তমানে আধুনিক দম্পতিদের জন্য এখানে বড় শিক্ষা রয়েছে। ঘরের কাজকর্ম শুধু নারীর একার দায়িত্ব নয়। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কাজ ভাগ করে নেওয়া উচিত। 
দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা, দয়া ও প্রশান্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের চেয়েও বেশি উত্তম। (সুনানে তিরমিজি)



পবিত্র কোরআনের ফজিলত সম্পর্কে ১০ হাদিস

প্রযুক্তির এই তীব্র গতিময় জীবনে আমরা কি কখনো থমকে দাঁড়িয়ে নিজেকে একটি জরুরি প্রশ্ন করেছি— পবিত্র কোরআনের সাথে আমাদের সম্পর্কটা আসলে কেমন? ফেসবুক, ইউটিউব বা এক্সের (সাবেক টুইটার) মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ সময় ও শ্রম ব্যয় করি, তার কতটুকু আল্লাহর দেওয়া জীবনবিধান পড়া, বোঝা কিংবা চর্চায় ব্যয় করছি? হিসাব মেলাতে গেলে আমাদের অনেককেই হয়তো লজ্জায় পড়তে হবে।
পবিত্র কোরআন এমন এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার, যা আমরা অবহেলা আর উদাসীনতায় অবলীলায় হারিয়ে ফেলছি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস আমাদের সেই ভুলের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই বাণীগুলো মনোযোগ দিয়ে অনুধাবন করলে কোরআনের সাথে আমাদের হারিয়ে যাওয়া আত্মিক সম্পর্ক আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।
মর্যাদার অনন্য শিখর
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বেশ কিছু হাদিসে কোরআন পাঠ ও চর্চাকারীদের বিশেষ মর্যাদার কথা বলা হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যিনি দক্ষতার সাথে কোরআন তেলাওয়াত করেন, তিনি সম্মানিত ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গী হবেন। আর যিনি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তোতলামি করে বা আটকে আটকে কোরআন পড়েন, তিনি দ্বিগুণ সওয়াব পাবেন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেন, কিয়ামতের দিন কোরআন ধারণকারীকে বলা হবে, কোরআন পাঠ করতে করতে উপরে আরোহণ করতে থাকো। দুনিয়াতে তুমি যেভাবে ধীরস্থিরভাবে তারতীলসহ পড়তে, সেভাবে পড়ো। কারণ তোমার চূড়ান্ত অবস্থান হবে তোমার পঠিত শেষ আয়াতের জায়গায়। (সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিজি)
হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যিনি নিজে কোরআন শেখেন এবং অন্যকে তা শেখান। (সহীহ বুখারী)
সওয়াব লাভের অফুরন্ত ভাণ্ডার
কোরআন শুধু পড়ার বিষয় নয়, এর প্রতিটি অক্ষরে লুকিয়ে আছে বিপুল সওয়াব ও প্রতিদান।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর যে ব্যক্তি পাঠ করবে, তার জন্য একটি পুণ্য বা নেকি রয়েছে। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। আমি বলছি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ মিলে একটি অক্ষর। বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম আরেকটি অক্ষর। (সুনানে তিরমিজি)
কিয়ামতের কঠিন দিনে সুপারিশকারী
মহাবিপদের দিনে যখন মানুষের কোনো আশ্রয় থাকবে না, তখন কোরআন তার পাঠকের পাশে এসে দাঁড়াবে।
হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা কোরআন তেলাওয়াত করো। কারণ কিয়ামতের দিন এই কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। (সহীহ মুসলিম)
হজরত আন-নওয়াস ইবনে সামআন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন কোরআন এবং দুনিয়াতে যারা এর ওপর আমল করত, তাদের হাজির করা হবে। তখন সূরা বাকারা এবং সূরা আল-ইমরান তাদের পাঠকদের পক্ষে জোরালো সুপারিশ করার জন্য সবার সামনে এগিয়ে আসবে। (সহীহ মুসলিম)
কোরআন শিক্ষার মজলিসে অফুরন্ত রহমত
দলবদ্ধভাবে আল্লাহর ঘরে বসে কোরআন চর্চা করার আলাদা এক আধ্যাত্মিক সুফল রয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখনই কোনো দল আল্লাহর কোনো ঘরে (মসজিদে) সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে এবং নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে পড়ালেখা বা আলোচনা করে, তখন তাদের ওপর বিশেষ প্রশান্তি নাজিল হয়, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ স্বয়ং তার নিকটবর্তী ফেরেশতাদের দরবারে তাদের কথা আলোচনা করেন। (সহীহ মুসলিম)
অন্তরে কোরআন ধারণের গুরুত্ব
কোরআনকে বুকে ধারণ করা এবং তা ভুলে না যাওয়ার জন্য নিয়মিত অনুশীলনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে হাদিসে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে কোরআনের কোনো অংশ নেই, সে যেন একটি পরিত্যক্ত বা উজার বাড়ি। (সুনানে তিরমিজি)
হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা নিয়মিত কোরআনের চর্চা বা পুনরাবৃত্তি করো। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদের জীবন, এটি রশি থেকে উটের পালিয়ে যাওয়ার চেয়েও দ্রুত মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শুধু দুই ধরনের ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঈর্ষা বা তাদের মতো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা বৈধ। প্রথমত, যাকে আল্লাহ কোরআনের জ্ঞান দান করেছেন এবং সে দিন-রাত তা তেলাওয়াত ও চর্চা করে। দ্বিতীয়ত, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন এবং সে দিন-রাত তা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে খরচ করে। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)


আদম (আ.) পৃথিবীতে আসার পর কী করেছিলেন?

মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালামের বেহেশত থেকে দুনিয়ায় আগমন এবং তার পরবর্তী জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে তার জীবনের নানা দিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
সুদীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় হজরত আদমের জীবন সম্পর্কিত অনেক তথ্যই এখন ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে। ফলে কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে তার জীবন নিয়ে সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভরযোগ্য আর কোনো উৎস অবশিষ্ট নেই। আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে যেসব তথ্য দেন, তার বেশিরভাগই ধারণানির্ভর। বিপরীতে, কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের সামনে তুলে ধরে বাস্তব ও ঐতিহাসিক সত্য। মহান আল্লাহ নিজেই এই রহস্যের প্রকৃত জ্ঞাতা এবং তিনি তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যতটুকু জানাতে চেয়েছেন, ঠিক ততটুকুই ওহীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
আলেমরা মূলত কোরআন, হাদীস এবং এসব উৎসের ওপর ভিত্তি করে রচিত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেন, যার মধ্যে ইমাম ইবনে কাছিরের সংকলন অন্যতম। বুখারী শরীফের একটি বর্ণনার বরাত দিয়ে ইবনে কাছির তার আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে উল্লেখ করেছেন, হজরত আদম থেকে শুরু করে হজরত নূহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত ১০টি প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছিল এবং তারা সবাই ইসলাম বা একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
হজরত আদম (আ.) ছিলেন পৃথিবীর বুকে প্রথম মুসলমান এবং প্রথম নবী। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, পৃথিবী পৃষ্ঠে পা রাখার সময় হজরত আদম প্রথম কোথায় নেমেছিলেন? বিভিন্ন ইতিহাস ও বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি তৎকালীন সিংহল বা বর্তমান শ্রীলঙ্কার একটি পাহাড়ে অবতরণ করেছিলেন। প্রাচীনকালে এই দ্বীপটিকে সারান্দীপ বা রত্নদ্বীপ বলা হতো।
জনশ্রুতি আছে, শ্রীলঙ্কার সেই পাহাড়ের চূড়ায় একটি পাথর রয়েছে, যেখানে হজরত আদমের পায়ের ছাপ স্পষ্ট অঙ্কিত। এই ঐতিহাসিক স্থানটি স্বচক্ষে দেখার জন্য অনেকেই সেখানে ছুটে যান। দুর্গম ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানো বেশ কঠিন। তবে যুগের পর যুগ ধরে মানুষ ওই পাহাড়টিকে আদমস পিক বা আদমের পাহাড় নামে ডেকে আসছে। ইতিহাস ও জনমানুষের এই অবিচ্ছিন্ন বিশ্বাসই প্রমাণ করে যে, সৃষ্টির শুরুতে হজরত আদম সেখানেই প্রথম পদার্পণ করেছিলেন।
শ্রীলঙ্কা থেকে মক্কা যাত্রা
অনেকে দাবি করেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় হজরত আদম ও বিবি হাওয়ার স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে। তবে এই তথ্য শ্রীলঙ্কায় অবতরণের দাবিকে নাকচ করে না। কারণ শ্রীলঙ্কায় নামার পর হযজরত আদম সেখান থেকে মক্কায় গিয়েছিলেন—এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক।
আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, যখন হাবিল ও কাবিলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং কাবিল তার ভাইকে হত্যা করে, সেই সময়ে হজরত আদম পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় অবস্থান করছিলেন।
মুসনাদে আহমদে বর্ণিত একটি হাদীস অনুযায়ী, হজরত আদমের উচ্চতা ছিল প্রায় ৫০ ফুট এবং চওড়া ছিল ৯ ফুট। বিশালাকৃতির এই শারীরিক গঠনের কারণে তার পক্ষে শ্রীলঙ্কা থেকে হেঁটে মক্কায় যাতায়াত করা মোটেও অসম্ভব বা কঠিন কিছু ছিল না। একইসঙ্গে ঐতিহাসিকরা মনে করেন, শ্রীলঙ্কা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে হযরত আদম যেখানেই যাত্রাবিরতি করেছিলেন, পরবর্তীতে সেসব স্থানেই এক একটি জনপদ বা শহরের সৃষ্টি হয়েছিল।
পবিত্র কাবার ইতিহাস
বিখ্যাত তাবেয়ী কাতাদাহর মতে, হজরত আদম (আ.) দুনিয়ায় আসার সময়ই মহান আল্লাহর নির্দেশে পবিত্র কাবা শরীফ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়। মহান আল্লাহ হজরত আদমকে জানিয়েছিলেন যে, আসমানে যেভাবে ফেরেশতারা আল্লাহর আরশ তাওয়াফ করেন, ঠিক তেমনি দুনিয়াতেও কাবার চারপাশ তাওয়াফ করা হবে।
পরবর্তীতে হজরত নূহের প্লাবনের সময় আল্লাহ তায়ালা কাবা ঘরকে ওপরে তুলে নেন এবং পৃথিবীর আজাব থেকে এটিকে রক্ষা করেন। এরপর দীর্ঘকাল এটি আসমানেই তাওয়াফের কেন্দ্র হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। বহু বছর পর হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশে সেই আদি ভিত্তির ওপর পুনরায় কাবার দেয়াল নির্মাণ করেন।
মুফাসসির ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা হজরত আদমকে কাবার চারপাশ তাওয়াফ করার নির্দেশ দেওয়ার পর একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে তাকে হজের সমস্ত নিয়মকানুন শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ইমাম ইবনে কাছিরের মতে, সৃষ্টির শুরুতে প্রথমে কাবা গৃহ নির্মিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একে কেন্দ্র করেই চারদিকে স্থলভাগ ছড়িয়ে পড়ে। সেই হিসেবে কাবা শরীফই হচ্ছে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু।
জীবনের শেষ দিনগুলো
ইমাম ইবনে কাছিরের বর্ণনা অনুযায়ী, জীবনের শেষভাগে হজরত আদম আলাইহিস সালাম আরব ভূখণ্ড থেকে পুনরায় শ্রীলঙ্কার সেই পাহাড়ে ফিরে যান, যেখানে তিনি প্রথমবার নেমেছিলেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাকে সমাহিত করা হয়।
হজরত  আদম প্রায় এক হাজার বছর জীবিত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তার বংশধররা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১ নম্বর আয়াতে যেভাবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন-ঠিক সেভাবেই তার সন্তান ও সন্ততিরা শ্রীলঙ্কা, আরব এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পৃথিবীতে মানব বসতি গড়ে তুলেছিল।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
ফুটবল মহাযজ্ঞ শুরু
মালয়েশিয়া থেকে ফেরার রাতেই ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-লুটপাট, আহত ৩
ঢাকা-কুমিল্লা রেল কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
চৌদ্দগ্রামে পিতার ২০ বছর পর পুত্রকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
চৌদ্দগ্রামে প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতের শিশুসহ আহত ৩
'দেবিদ্বার- চান্দিনা- মুরাদনগর' হামের হটস্পট
নগর ভবন স্থানান্তরে একমত নয় জামায়াত
তারেক রহমানের নেতৃত্বে পার্লামেন্টে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে-কাজী নাহিদ
বরুড়া বাজারে স্বর্ণ ও কাপড়ের দোকানে চুরি
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২