কুমিল্লার
বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের রাজপুর গ্রামে ছয় সন্তানের জনক এক অসহায়
বৃদ্ধকে প্রতিবন্ধী সন্তানসহ মুরগির খামারে মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখে
তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
আসাদুজ্জামান রনি। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের ভরণপোষণে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট
সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার
(১১ জুন) স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিষয়টি ইউএনওর
নজরে আসে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধের বসবাসের অবস্থা সরেজমিনে
পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও দেখতে পান, নিজস্ব বসতভিটা ও ঘর থাকা
সত্ত্বেও ওই বৃদ্ধ তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে একটি মুরগির খামারে বসবাস
করছেন। অন্যদিকে তার ছেলে ও পুত্রবধূরা পৃথক ঘর ও ভবনে অবস্থান করলেও
বৃদ্ধ বাবা ও প্রতিবন্ধী সন্তানের যথাযথ দেখভাল করছেন না।
বিষয়টির
সত্যতা পাওয়ার পর ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধ বাবাকে তার
নিজ ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ডেকে
বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
এ সময়
ইউএনও বলেন, “বাবা-মায়ের ভরণপোষণ ও দেখভালের দায়িত্ব সন্তানের। কেউ যদি এ
দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইউএনওর এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে
প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ পরিবার ও
সমাজে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা
বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, বৃদ্ধ ও তার
প্রতিবন্ধী সন্তানের দুর্দশার খবর প্রকাশের পর প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ
মানবিক প্রশাসনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
