নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ইউরোপ
যাত্রায় বাংলাদেশী অভিবাসীদের নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে দেশের দালালদের
বিচারের আওতায় আনা এবং প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের বিদেশ যেতে সীমাহীন
কষ্ট দুর্দশা সংসদে তুলে ধরেছেন কুমিল্লা ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক
চৌধুরী। আদম ব্যবসায় দালাল দুষ্ট চক্রের হাত থেকে এদেশের প্রবাসীদের মুক্তি
এবং অবৈধ পথে যারা বিদেশ নেয়ার নামে হয়রানি যারা করছে সে দালার চক্রকে
আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন।
বুধবার (১০ জুন)
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী এসব দাবি তুলে ধরে বলেন,
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যাত্রা একটি মরণফাঁদ। দালাল চক্রের প্রলোভনে যে মানবীয়
দানবীয় ঘটনা ঘটে তার একটি বিচার আজ পর্যন্ত হয়েছে বলে মনে হয় না। শিশুর
রামিশা হত্যার ঘটনার বিচার যেমন তাড়াতাড়ি হয়েছে; মানব পাচারে যে হত্যা-খুন
হয় তাদের বিচারও ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা করতে পারলে এ সংকট বন্ধ হবে।
তিনি
বলেন, অভিবাসনের বিপজ্জনক রুটে দালালচক্র বেশে দুর্গম রাস্তার জঙ্গল,
ঝুঁকিপূর্ণ নদী ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপ পাঠানোর চেষ্টায় অনেকে পৌঁছতে না
পেরে প্রাণ হারান, আবার কেউ পৌছলেও সেখানে গিয়ে কাজ পান না অভিবাসীরা।
মানবিক বিপর্যয়, জিম্মি, নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করে লাশ হয়ে ফেরার সঙ্গে
আমাদের দেশের লোকেরাই করেন এমন নিশংস কর্মকাণ্ড। এসব অপরাধীদের পত্রিকায়
নাম আসে আজ পর্যন্ত শুনিনি কোনো সরকারের আমলে তাদের বিচার আওতায় আনতে।
এই
বিষয়টি দেখার জন্য মন্ত্রণালয় রয়েছে। বর্তমানে এ মন্ত্রণালয়ের সরকারের
যিনি প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন নুরুল হক নূর তিনিও যদি এই অভিবাসন মৃত্যুর এ
সমস্যা সমাধান করতে না পারেন তাহলে আমরা কার কাছে যাবো। সুতরাং আমি আশা করি
মন্ত্রণালয় কঠিন হলেই এই সমস্যা রোধ করা যাবে।
মনিরুল হক চৌধুরী আরো
বলেন, ইউরোপ যাত্রায় জিম্মি এবং মুক্তিপণ এটি একটি বিরাট সংকট। এটার জন্য
আমাদের রাষ্ট্রদূত এবং রাষ্ট্রাচার গুলো কি জন্য থাকে আজ পর্যন্ত বলতে
পারবো না। কেউ কোনদিন আমাদের লোকগুলোর বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে সে গল্প কখনো
শুনিনি। বৈধ এজেন্সি এটা ইচ্ছা করলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিন্তু করবে না।
কারণ তাদের টাকার এতো দৌরাত্ম, যে কোন জায়গায় এই টাকা যায়। একমাত্র
জামায়াতের ইসলামের কেউ এ টাকা নিয়েছে বলে শুনিনি। এ সময় জামাতের সংসদ ও
সদস্যদের লক্ষ্য করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, হাততালি দিয়ে লাভ নাই এ কাণ্ডে
কেউ বাদ নেই। অভিবাসন কর্মীদের সহযোগিতায় মন্ত্রণালয় হয়েছে, জেলা জেলায়
অফিস হয়েছে, কিন্তু এ রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কতটুকু শতাংশ সেবা পায় এটার
হিসাব হওয়া উচিত।
এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে
লক্ষ্য করে বলেন, এটাও তদন্ত হয়, এ তদন্তটা আপনি করে দেখতে পারেন। বাদ তো
কিছু রাখেননি, এ সংকটটি একটু ধরেন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। তার যাত্রা কি ঘিরে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী মালোশিয়ান
অভিবাসীরা। বর্তমানে মালয়েশিয়ার সাথে আমাদের যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো রয়েছে
সেগুলো সমাধান হলে এরপর প্রধানমন্ত্রীকে বলব আপনি সৌদি আরব যান। সংকট
সমাধানের মাধ্যমে অভিবাসন বন্ধের দরজা খুলে দেন। আমাদের রেমিটেন্স প্রয়োজন।
দেশের প্রয়োজনীয় ডলারের জন্য এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারাই যথেষ্ট।
