কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী কে হচ্ছেন-এ প্রশ্ন এখন নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা না হলেও দলীয় সূত্র বলছে, চলতি মাসেই চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা সদর আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। ফলে সম্ভাব্য কুসিক নির্বাচন ঘিরেও দলটির তৎপরতা বেড়েছে।
জানাগেছে, ইতোমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেছে জামায়াত। কুমিল্লা মহানগরের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন রোকন এবং মহানগর ছাত্রশিবিরের শতাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। তবে কারা কত ভোট পেয়েছেন কিংবা কোন নাম সবচেয়ে বেশি প্রস্তাবিত হয়েছে, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জামায়াতের মহানগর রোকন সমাবেশে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নারী ও পুরুষ রোকনরা পৃথকভাবে গোপন ব্যালটে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে জমা দেন। একই প্রক্রিয়ায় মতামত দেন মহানগর ছাত্রশিবিরের শতাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি।
জানা গেছে, জামায়াতের সাংগঠনিক রীতিতে কোনো ব্যক্তি নিজে থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন না। বরং দলীয় জনশক্তির মতামত, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও নির্বাচনী সম্ভাবনা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউই প্রকাশ্যে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন না।
তবে দলীয় বিভিন্ন সূত্রে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য, ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মুসলেহ উদ্দিন; বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও কর্ণফুলী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া; কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন; এবং জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী হাজী নুরুদ্দিন।
তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দলীয় দায়িত্বশীলরাও বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী হাজী নুরুদ্দিন এ প্রতিবেদককে পূর্বে জানান, তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। বিষয়টি তিনি আগেই দলের দায়িত্বশীলদের জানিয়ে দিয়েছেন।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন বলেন, “গোপন ব্যালটে সম্মানিত রোকনরা মতামত দিয়েছেন। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।”
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও কর্ণফুলী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস মুসলেহ উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি জানান, একটি সভায় ব্য স্ত আছেন, শেষ করে কথা বলবেন।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এ প্রতিবেদককে বলেন, “জনশক্তির মতামত ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। আশা করছি, চলতি মাসের মধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কে বা কারা বেশি সমর্থন পেয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”
এদিকে সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে যখন নানা হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কাকে সামনে এনে কুসিকের মেয়র পদে লড়াইয়ে নামায় দলটি। চলতি মাসেই সেই জল্পনার অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।