নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর তুহিন হত্যা
মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা
গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত ২ জুন
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (৩ জুন)
তাদের আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবু এবং তার ছেলে দিদারুল আলম নাফিজ (১৫)।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ সালে সাইফুল ইসলামের মেয়ে নেহা
প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তুহিনকে সন্দেহভাজন
হিসেবে ধরে এনে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে আটকে রাখে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে
তুহিনের হাত-পা বেঁধে স্টিলের পাইপ ও রড দিয়ে বুকে, পিঠে এবং পায়ে নির্মম
নির্যাতন চালানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে
বুড়িচং, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের
আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ অক্টোবর ২০২৫ সালে তুহিন
মারা যান।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার তদন্তভার জেলা
গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত চলাকালে ডিবি
পুলিশ ঘটনায় জড়িত আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে ১৬৪
ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রদান করে।
তবে মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ও তার ছেলে নাফিজ
দীর্ঘদিন কৌশলে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতারে সময় লাগে। অবশেষে পুলিশ
সুপারের বিশেষ নির্দেশনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি বিশেষ দল
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ডিবি
সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা এবং
জড়িত অন্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে আদালতের কাছে ৭ দিনের
রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
