
ঈদের টানা সাত দিন ছুটি শেষে আজ প্রথম কর্মদিবসে হঠাৎ কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এমপির হঠাৎ পরিদর্শনে আসেন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মো. মনিরুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি দপ্তরের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং প্রধান প্রকৌশলীর কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে চেয়ার ফাঁকা পড়ে আছে দেখতে পান। ছুটি শেষে নির্দিষ্ট সময়ের পরও দপ্তরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিত পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তিনি।
পরে তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি আরও কয়েকটি সরকারি দপ্তরেও পরিদর্শন করেন। হঠাৎ পরিদর্শনের বিষয়টি কুমিল্লার কাগজকে নিশ্চিত করেছেন এমপি নিজেই।
তিনি জানান, সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পরিদর্শনে এসে দপ্তরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কুমিল্লা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রাক্কলনিকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাউকে পায়নি। এছাড়াও ১১টায় বাজলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি, অপরিচ্ছন্ন বিশৃঙ্খল পরিবেশে কয়েকটি কক্ষ দেখতে পাই। আমাকে দেখে হাজিরা খাতায় তড়িঘড়ি করে কয়েকজন কর্মচারী স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে কয়েকজন ঈদের আগে চার কর্মদিবসের স্বাক্ষর করছেন একসাথে। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিক উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত জানিয়েছে। কেউ সরকারি সেবার মান এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে ব্যাহত করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.শফিউল হক বলেন, আমার এমপির মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাক্কলনিক তারেক মোল্লা আজ ছুটিতে আছেন। আমার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া, এখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমি গাড়িতে কুমিল্লা অফিসে আসতেছি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার জন্য দুঃখিত।
কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ মোঃ মনিরুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আনোয়ার হোসেন জানান, এমপি মহোদয় ঈদুল আযহার পর প্রথম কর্মদিবসে আকস্মিক ভাবে কুমিল্লা জেলা সাব রেজিস্টার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। দলিল লেখকদের পেশাগত মাণ বৃদ্ধি ও স্পষ্ট বানানে লিখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এসময় জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সকল কর্মকর্তাকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত পেয়ে, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে নতুন রেকর্ড রুম তৈরির ঘোষণা দেন।
এরপর বেলা ১১টায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পরিদর্শন করেন। এখানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কুমিল্লা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রাক্কলনিকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারিদের অনুপস্থিত দেখা যায়। তিনি হাজিরা খাতা দেখতে চান, এ সময় তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর করেন কর্মচারিরা। একজনকে পাওয়া যায়, যিনি ঈদের আগে চার কর্মদিবসের স্বাক্ষর একসাথে করতেছেন। বিষয়টি এমপি তাৎক্ষণিক উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
