
জাতীয়
পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মোঃ নাহিদ বলেন, নারী শিক্ষার
প্রসার ঘটাতে চৌদ্দগ্রামের কৃতি সন্তান সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর
আহমেদ তাঁর মমতাময়ী মা বেগম তাহেরা খাতুনের নামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
করেছিলেন। চৌদ্দগ্রামের মেয়েরা যেন পড়ালেখায় ভালো করতে পারে, পৃথিবীর
বিভিন্নস্থানে যেন মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে, সে কারণে বিদ্যালয়টি নির্মাণ
করা হয়েছিল। ডাঃ তাহের ভাইয়ের এলাকা আলকরা ইউনিয়নের বাকগ্রামে কাজী আহমদ
আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন কাজী জাফর আহমেদ। তেমনিভাবে চিওড়া কলেজ
ও চৌদ্দগ্রাম কলেজকে সরকারিকরন করেছিলেন এই অঞ্চলের সন্তানদেরকে শিক্ষিত
করার জন্য। শ্রমজীবি মানুষের কথা চিন্তা করে চৌদ্দগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী
গড়ে তোলেন এবং অন্ধকার থেকে চৌদ্দগ্রামের মানুষকে আলো দিতে বিদ্যুতের লাইন
দিয়েছেন। যারা এ এলাকার সন্তান, আপনারা কাজী জাফর আহমেদকে চিনেন না। কাজী
আহমেদ হচ্ছেন সেই সন্তান, ১৯৭০ সালে ২২ ফেব্রুয়ারী পল্টন ময়দানে মজলুম
জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নির্দেশনায় সর্বপ্রথম পূর্ব বাংলার
স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। সেই দিনের সেই সমাবেশের পর এই কাজী জাফর আহমেদের
বিরুদ্ধে পাকিস্তান মিলিটারি সরকার তার বিরুদ্ধে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছিল।
তাঁর সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল। উত্তাধিকার সূত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী
হননি, তার যোগ্যতার বলে, মেধার বলে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বলে তখনকার
রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনিই এই
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাকালীন কাজী জাফর আহমেদ।
তিনি রোববার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট তাহের খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রুবি জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন।
এতে
প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ
মোঃ তাহের এমপি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরে আলম মিয়াজীর
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পার্টি(জাফর) প্রেসিডিয়াম
সদস্য কাজী মোঃ নাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
শাহাদাৎ হোসেন, জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা
জামায়াতের আমীর মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, উপজেলা
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মীর হোসেন, মুন্সিরহাট ইউপির সাবেক
চেয়ারম্যান শাহ আলম মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাজেদুর রহমান মোল্লা
হিরণ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন, মুন্সিরহাট উচ্চ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলেশ মন্ডল, উপজেলা জাতীয় পার্টির(জাফর) সাধারণ
সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরীফ মোঃ ইউসুফ ও নুরুল
আমিনের পরিচালনায় স্মৃতিচারণ করেন সাবেক শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার, রাশেদা
আক্তার, ফরিদা ইয়াসমিন, শাহীনা সুলতানা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত
ছিলেন শিক্ষক শিরিন শারমিন, এমদাদুল হক, জগদীশ বাগৈড়, আফসার জাহান, নাছিমা
আক্তার, শাহিনা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
