
বিশ্বক্রিকেটে নেপালের উত্থানকে অনেকেই 'অনুপ্রেরণাদায়ী রূপকথা' বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। তবে সিঙ্গাপুরের মাঠে আজ সেই রূপকথা রূপ নিলো এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে বিশ্বরেকর্ডে নতুন করে নিজেদের নামে লিখিয়ে নিলো আইসিসির সহযোগী দেশটি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে প্রথম পুরুষ দল হিসেবে দু-দুটি ভিন্ন ম্যাচে ৩০০ রানের গণ্ডি পার করার অনন্য এক রেকর্ড গড়লো নেপাল। এর আগে ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেটে ৩১৪ রানের পাহাড় গড়ে প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল নেপাল। আর আজ চীনের বিপক্ষে ২ উইকেটে ৩১৩ রান পাহাড় গড়ে আবারও সেই জাদুকরি সংখ্যা স্পর্শ করলো তারা।
ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আর কোনো দলের এমন নজির নেই। এক দশক অপেক্ষার পর ২০২৪ সালে যারা কেবল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফেরার স্বাদ পেয়েছিল, সেই নেপালের ক্রিকেট যাত্রায় এই অর্জন নিঃসন্দেহে এক মহাকাব্যিক মাইলফলক।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পরাশক্তিরা বহুবার রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। তবে এই বিশ্বমঞ্চের বাঘা বাঘা দলগুলোর কেউই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুইবার ৩০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি।
২০২৬ এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের উদ্বোধনী ম্যাচেই চীনের বিপক্ষে রেকর্ডের সুনামি বইয়ে দেয় নেপাল। ওপেনার কুশল ভুর্তেলের টর্নেডো শতকে ভর করে রেকর্ডবুক ওলটপালট করা এক ব্যাটিং প্রদর্শনীর পর, ২২১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় হিমালয়ের দেশটি।
সিঙ্গাপুরের মাঠে আজ টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চীন। তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত যে কতটা আত্মঘাতী ছিল, তা প্রমাণ করতে একদমই সময় নেননি নেপালের ব্যাটাররা। ইনিংসের শুরু থেকেই চীনা বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালান তারা।
ম্যাচের আসল নায়ক কুশল ভুর্তেল মাত্র ৪৩ বলে খেলেন ১২৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তাঁর এই দানবীয় ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৬টি ছক্কায়। দ্বিতীয় উইকেটে কুশল মাল্লার সঙ্গে ১৭৫ রানের এক রেকর্ড জুটি গড়েন তিনি। ভুর্তেল বিদায় নিলেও তাণ্ডব থামেনি; মাল্লা ৪৭ বলে ৮৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিকে ইনিংসের গতি আরও বাড়িয়ে মাত্র ২১ বলে ৬৯ রানের এক ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক রোহিত পৌডেল। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৩১৩ রানের পর্বতসম পুঁজি দাঁড় করায় নেপাল।
৩১৪ রানের আকাশচুম্বী লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দিশেহারী হয়ে পড়ে চীন। নেপালি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান খরচায় ২ উইকেট নেন কামি, আর ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন লামিছানে। তবে বল হাতে আসল চমকটি দেখিয়েছেন কুশল মাল্লা। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও চীনের লোয়ার অর্ডারকে একাই গুঁড়িয়ে দেন তিনি। নিজের ১.২ ওভারের স্পেলে কোনো রান না দিয়েই তুলে নেন ৩টি উইকেট! তার এই কিপটে স্পেলেই ১৯.২ ওভারে মাত্র ৯২ রানে অলআউট হয়ে যায় চীন।
