কুমিল্লার
দেবিদ্বারে ফেসবুকে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এসএসসির এক
পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে মারধর ও দেশীয় পিস্তল প্রদর্শনের ঘটনায় কিশোর
গ্যাংয়ের ‘রেড ৯৯৯’ ও ‘বিজিএম’-এর ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত
বুধবার রাতে দেবিদ্বারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের আদালতের মাধ্যমে
কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বুধবার
দুপুরে দেবিদ্বার পৌরসভার উপজেলা পরিষদ গেইট সংলগ্ন এলাকায় তামিম ইকবাল
নামে এসএসসির পরীক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায় একদল কিশোর গ্যাং। পরবর্তীতে
মাহিন নামে এক কিশোর তার দলবলসহ দেশীয় একটি পিস্তল কোমড়ে গুজে শান্তিরোডের
দিকে পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পিস্তল প্রদর্শন ও
হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায়
বুধবার রাতে দেবিদ্বার থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান
চালিয়ে মোট ২০ কিশোরকে আটক করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধমূলক কর্মকান্ডে
জড়িত থাকার দায়ে কিশোর গ্যাং দুই গ্রুপের ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিদের
ছেড়ে দেওয়া হয়। আটককৃতরা হলো, দেবিদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়ার মো. সোহরাব
খানের ছেলে জাবেদ, মুরাদনগর উপজেলার পাইয়র বাড়ীর আমির হোসেনের ছেলে মো.
তুহিন, দেবিদ্বার পুরাতন বাজার এলাকার শাহ জালালের ছেলে শাহীন, দেবিদ্বার
উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মো. মনু মিয়ার ছেলে মো. শাহীন (২), বানিয়াপাড়ার
নুরনবীর ছেলে মো. শাহাদাত হোসেন, বানিয়াপাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে
সাকিবুল হাসান, বানিয়াপাড়ার আল আমিনের ছেলে মো.সাইমন এবং বানিয়াপাড়ার মবিন
মিয়ার ছেলে মো. ফয়সাল হোসেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবিদ্বার
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়া বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং
অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫-৩০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায়
অভিযোগ করা হয়, ‘রেড ৯৯৯’ ও ‘বিজিএম’ গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র,
চাপাতি, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় শক্তির মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক
সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করা হয়।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০জন আটক করা হয়েছে।
পরবর্তীতে যাচাই বাছাই শেষে ১২জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৮জন কিশোর
গ্যাংয়ের ‘রেড ৯৯৯’ ও ‘বিজিএম’-এর ৮ সদস্য। তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে
কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। দেবিদ্বারে কিশোর গ্যাংয়ের
অস্তিত্ব বলতে কিছুই রাখা হবে না, আমরা কঠোর হাতে তা দমন করব।
